চট্টগ্রাম নগরে ঝুঁকিপূর্ণ ১৭ পাহাড়ে বসবাসকারী ৮৩৫ পরিবারকে সরিয়ে নিতে মালিকদের নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। পাশাপাশি আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এসব পাহাড়ে অবৈধভাবে দেওয়া বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে বলা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির ১৯তম সভায় এসব নির্দেশনা দেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান।
তিনি বলেন, দুর্যোগে অকাল মৃত্যু ঠেকানো প্রশাসনের কাজ। একজন মানুষও যাতে মাটি চাপা না পড়ে, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। মতিঝর্ণা পাহাড়ে স্থানীয় কাউন্সিলরের নেতৃত্বে কিছু ‘মাস্তান’ বসবাসকারীদের নানা অভয় দেখিয়ে বসবাস করায়। তাদের কাছ থেকে টাকা পয়সা নেয়। যেই সব মাস্তান বা দুর্বৃত্ত পাহাড়ে বসবাস করতে প্ররোচনা দিচ্ছে, তাদের চিহ্নিত করতে হবে। যত বড় নেতা হবে হোক, একটি তালিকা তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। এরা দেশের ক্ষতি করছে। মানবিক দিক বিবেচনা প্রয়োজনে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন চাইলে প্রকল্প নিতে পারে বলেও অভিমত ব্যক্ত করেন বিভাগীয় কমিশনার।
সভায় স্থানীয় সরকার পরিচালক দীপক চক্রবর্তী বলেন, তালিকানুসারে ১৭টি পাহাড়ের যারা মালিক, তাদেরকে এইসব পাহাড়ে অবৈধভাবে বসবাসকারীদের সরিয়ে নিতে হবে। অন্যথায় সংস্থার প্রধানকে দায়ী করা হবে। আগামী ১৫ মে’র মধ্যে পাহাড়ের সকল অবৈধস্থাপনা উচ্ছেদ করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারী ৮৩৫ পরিবারকে সরিয়ে নিতে হবে।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন বলেন, পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের সরিয়ে নিতে হবে। অন্যথায় সেখানে যদি দুর্যোগ হয়ে কোন প্রাণহানির ঘটনা ঘটে, তাহলে ওই সব পাহাড়ের মালিকদের বিরুদ্ধে দুর্যোগ আইনে মামলা করা হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
সভার শুরুতেই পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) দেলোয়ার হোসেন বলেন, নগরের ৬টি ভূমি অফিসের দেওয়া তথ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি মালিকানার মিলিয়ে ১৭টি পাহাড় রয়েছে। সেখানে ঝুঁকিপূর্ণভাবে ৮৩৫টি পরিবার বসবাস করছে।
১৭টি পাহাড়ের মধ্যে ১০টি ব্যক্তি মালিকানার এবং বাকি ৭টির মালিক চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, রেলওয়ে চট্টগ্রাম পূর্বাঞ্চল, চট্টগ্রাম ওয়াসা, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, গণপূর্ত বিভাগ ও জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে রেলওয়ের মালিকানাধীন নগরের মতিঝরনা পাহাড়ে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের ছত্রছায়ায় বসবাস করছে এবং সড়ক ও জনপদ বিভাগের কিছু অসাধু কর্মচারী আরেকটি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসতি করছে।
সভায় রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান ভূ-সম্পদ কর্মকর্তা ইসরাত রেজা, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শামসুল আলম, চসিকের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম, বিজিবির ডেপুটি রিজিওনাল কমান্ডার কর্নেল আরেফিন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।