শবরীমালার ঘটনার পর এবার ভারতের সুপ্রিম কোর্ট মসজিদে নারীদের নামাজের অনুমতি দিতে শুনানিতে রাজি হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে নারীদের কোনো বাধানিষেধ ছাড়াই মসজিদে প্রবেশের বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা জানানো হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, সেন্ট্রাল ওয়াকফ কাউন্সিল এবং অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ডকে নোটিস পাঠিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘আমরা শবরীমালা মন্দির বিষয়ে রায়ের কারণেই এই মামলার শুনানিতে রাজি হয়েছি।’
মহারাষ্ট্রের এক মুসলিম দম্পতির আবেদনে সাড়া দিয়ে শীর্ষ আদালত তাদের জিজ্ঞাসা করে, কোথাও ধর্ম পালন করতে গিয়ে কোনো মসজিদে কেউ কি তাদের থামিয়েছিল কি না। আদালত ওই দম্পতিকে বেশ কিছু প্রশ্ন করেছেÑ আপনি কি চান অন্য মানুষরা আপনাকে সমান চোখে দেখুক? এটা কি কোনো বিচ্ছিন্ন ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য? আপনি কি অন্য নাগরিকদেরও স্বাধীনতা দাবি করেন? বিচারক এস এ বোবদের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ থেকে শুনানি গ্রহণের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
ইয়াসমিন জুবের আহমেদ পেরিজাদ ও জুবের আহমেদ নামের এক দম্পতি আদালতে তাদের আবেদনে জানিয়েছেন, তারা সুপ্রিম কোর্টের শবরীমালা মন্দিরের রায় দেখে খুবই অনুপ্রাণিত হয়েছেন এবং তারা মসজিদে লিঙ্গের ভিত্তিতে হওয়া অসাম্যের বিরোধী।
আবেদনে বলা হয়েছে, নারীদের মসজিদে ঢুকতে না দেওয়াটা আইনত অন্যায় এবং সংবিধানের ১৪, ১৫, ২১, ২৫ ও ২৯ নম্বর ধারাকে অগ্রাহ্য করার সমান। আবেদনে আরও বলা হয়েছে ‘পবিত্র কোরআনের কোথাও এমন বলা নেই যে, মেয়েরা মসজিদে প্রার্থনা করতে পারবে না। কোরআন কখনোই পুরুষ ও নারীর মধ্যে বিভেদ করে না। শুধু বিশ্বাসের কথা বলে। কিন্তু ইসলাম তার পরিবর্তে একটি ধর্মে পরিণত হয়েছে, যারা নারীদের প্রতি শুধু দমনমূলক আচরণ করে।’