৪শ লোহার সেতুর দুই শতাধিক ভাঙা, যোগাযোগ ব্যবস্থা বেহাল

ঝালকাঠি জেলায় বিভিন্ন সময় নির্মিত লোহার সেতুগুলো একের পর এক ভেঙে গিয়ে গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এলজিইডির আওতাধীন জেলার মোট চার শ লোহার সেতুর মধ্যে দুই শত চৌদ্দটিই ব্যবহার অনুপযোগী। এর মধ্যে প্রায় অর্ধ শত  লোহার সেতু বিধ্বস্ত।

এই সেতুগুলোর মধ্যে বেশকটি সেতু রয়েছে যেগুলো ২০০৭ সালে সিডরে বিধ্বস্ত হয়েছিল। নব্বই সালের পরে নির্মিত এসব লোহার সেতু নির্মাণ পরবর্তী সংস্কার কিংবা প্রতিস্থাপন না করায় জেলার চার উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়েছে।

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার পোনাবালিয়া খালের ওপর অবস্থিত জেলা সদরের সাথে সংযোগ রক্ষাকারী সেতুটি ২০০৭ সালের সুপার সাইক্লোন সিডরে বিধ্বস্ত হয়। এর পরে ভাঙা অংশে স্থানীয়রা কাঠের পাটাতন,বাঁশ এবং সুপারি গাছ দিয়ে যোগাযোগ সচল রেখেছে। জেলায় বিভিন্ন সময় বিধ্বস্ত এ ধরনের সেতুর সংখ্যা অন্তত পঞ্চাশটি। নড়বড়ে ব্যবহার অনুপযোগী ঝুঁকিপূর্ণ লোহার সেতু রয়েছে আরো একশত চৌষট্টিটি। এসব সেতুর ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচল তো দুরে কথা স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী, শিশু এবং বৃদ্ধদের জন্য সৃষ্টি হয়েছে মরণ ফাঁদ। এতে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।

ঝালকাঠি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর জানিয়েছে, ১৯৯৫ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত জেলায় চারশটি  লোহার সেতু নির্মান করা হয়। এর মধ্যে সরকারি-বেসরকারি সহায়তায় এইসব সেতুর কয়েকটি সংযোগ সড়ক সংস্কার করা হলেও সিডরে বিধ্বস্ত বিশটি সেতু এক যুগেও সংস্কার কিংবা পুণনির্মাণ করা হয়নি।

এসব সেতুর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো নলছিটির টেকেরহাট-পোনাবালিয়া সংযোগ সেতু।এই সেতুটিই স্থানীয়দের জেলা সদরের সাথে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম। তাছাড়া এই সেতুর পশ্চিম পাশে কে খান মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও পোনাবালিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় হওয়ায় স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ার ৫০ শয্যাবিশিষ্ট আমুয়া হাসপাতালে যাতায়াতের প্রধান সড়কে অবস্থিত আমুয়া খালের ওপর অবস্থিত লোহার সেতুটির মাঝের অংশ প্রায় দেড় বছর আগে বালি ভর্তি কার্গোর ধাক্কায় ভেঙে যায়। এরপর স্থানীয়রা দুই পাড়ের যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু রাখতে বাঁশ এবং সুপারি গাছ দিয়ে মেরামত করে কোন ভাবে যাতায়াত করছে। বন্ধ হয়ে গেছে অ্যাম্বুলেন্সে রোগী আনা-নেওয়া।

কাঁঠালিয়ার আমুয়া ছোনাউটা এলাকার চান্দের খালের ওপর  লোহার সেতু এবং কৈখালি বানাই সড়কের তপছের এর খালের সেতুটিও ভেঙে খালে পড়ে আছে। একই ভাবে ঝালকাঠি সদর ও রাজাপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অসংখ্য সেতু ভেঙে থাকলেও নেই কোন সংস্কারের উদ্যোগ।

এ বিষয়ে ঝালকাঠি এলজিইডির সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. নূর উস শামস বলেন, আমরা ইতিমধ্যেই উপজেলা প্রকৌশলীদের কাছ থেকে বিধ্বস্ত ও ভাঙা সেতুগুলোর তালিকা এনে ঢাকায় প্রকল্প পরিচালক বরাবর পাঠিয়েছি। অশা করছি এসব বিধ্বস্ত সেতুর জন্য নতুন ভাবে গার্ডার ব্রিজের অনুমোদন এবং ভাঙা সেতুগুলোর সংস্কারের জন্য শীঘ্রই বরাদ্দ পাব।