শিশুদের নীতিকথা চর্চা ও অনুসরণ করার মাধ্যমে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে নরসিংদীর শিবপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চালু করা হয়েছে ব্যতিক্রমী ‘নীতির পাঠশালা।’ পাঠশালায় শিক্ষকরা গল্পচ্ছলে শিক্ষার্থীদের শেখাচ্ছেন বিভিন্ন নীতিবাক্য। নরসিংদীর শিবপুর উপজেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত শিবপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়ের অন্যান্য শ্রেণিকক্ষের চেয়ে ব্যতিক্রম দ্বিতীয় তলার একটি শ্রেণিকক্ষÑ যার নাম ‘নীতির পাঠশালা’। নীতির পাঠশালার দেয়ালজুড়ে রং-তুলির আঁচড়ে ফুটে উঠেছে বিভিন্ন নীতিবাক্য ও বিখ্যাত ব্যক্তির বাণী।
‘সদা সত্য কথা বলব’ ‘পিতামাতা, শিক্ষকসহ ছোট-বড় ধনী-দরিদ্র সকলকে সম্মান করব’ ‘দুর্বলের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেব’ ‘সহনশীল জীবন যাপন করব’ ‘সামাজিক দায়িত্ব পালন করব’ ‘অন্যের মঙ্গল কামনা করব’ ‘আমি নৈতিক তাই মন দিয়ে পড়ি, ভালো কাজ করি আর সত্য কথা বলি’ ‘অসুস্থ রোগীর মুখে হাসি ফোটানোর জন্য আমি ডাক্তার হব’ ‘অনেক জেনে ভুলে যাওয়ার চেয়ে, অল্প জেনে মনে রাখা ভালো’ ‘মাদার তেরেসার মতো আমিও অন্যের মুখে অন্ন তুলে দেব’ ইত্যাদি।
গত বছরের ২০ সেপ্টেম্বর শিবপুর উপজেলার তৎকালীন নির্বাহী কর্মকর্তা শীলু রায়ের পরিকল্পনা ও উদ্যোগে গড়ে ওঠা নীতির পাঠশালার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন। বর্তমানে প্রতি বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীদের নীতিবাক্য শেখাচ্ছেন শিক্ষকরা। এরইমধ্যে নীতির পাঠশালা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে।
বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী তানভীন খান মাহী বলে, ‘স্যাররা আমাদের বিভিন্ন নীতিবাক্য শেখাচ্ছেন। ‘সদা সত্য কথা বলতে হবে’ ‘মানুষের প্রতি দয়াশীল হতে হবে।’ এগুলো আমরা মেনে চললে ভালো মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়তে পারব।’ শিবপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাসুদুর রহমান খান বলেন, প্রচলিত পাঠদানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আদর্শিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতেই ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগের পরিকল্পনা নেয় উপজেলা প্রশাসন। এরই মধ্যে নীতির পাঠশালা শিক্ষার্থীদের মানবিক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখছে।
জেলা প্রশাসক সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন বলেন, শিশুরা ছোট সময়ে যা শেখে সেভাবেই তারা গড়ে ওঠে। ফলে নীতির পাঠশালা শিশুদের ভালো মানুষ এবং দেশপ্রেমিক হিসেবে গড়ে উঠতে ভূমিকা রাখবে। ব্যতিক্রমী নীতির পাঠশালা পর্যায়ক্রমে জেলার সব বিদ্যালয়ে চালু করার কথা জানিয়েছেন তিনি।