রাজধানীর দক্ষিণ মুগদা ব্যাংক কলোনি এলাকায় গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার পর কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
বুধবার সকালে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন গৃহবধূর নাম হাসি বেগম (৩৫)। দ্বিতীয় স্বামী কমল হোসেন (৪২) তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর গাড়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ।
কমলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং সে প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে।
হাসি বেগমের স্বজনরা জানান, তার আগের স্বামীর নাম সুজন। তাদের সাত বছরের ছেলে মেহেদী হাসান শিশির ওরফে শুভকে নিজের কাছে রাখা ও ছেলের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে বিদেশ যাওয়াকে কেন্দ্র করে দাম্পত্য কলহের একপর্যায়ে হাসিকে গলাটিপে হত্যা করে কমল। পরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। যাতে সবাই মনে করে সে আত্মহত্যা করেছে বা দুর্ঘটনার শিকার হয়ে মারা গেছে।
হাসি বেগমের প্রতিবেশী ও দক্ষিণ মুগদা ব্যাংক কলোনি কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক পলাশ আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, সকাল পৌনে ৯টার দিকে আগুন আগুন চিৎকার শুনে বাসার বাইরে এসে দেখি কমলের ভাড়া বাসায় আগুন লেগেছে। পরে তারা নিজেরাই আগুন নেভায়। আগুন কোথায় কেন লেগেছে দেখার জন্য বাসার ভেতরে গেলে খাটের ওপর শোয়া অবস্থায় হাসি বেগমের লাশ দেখতে পাই। অবস্থা দেখে সে তাৎক্ষণিক আগুনে পুড়ে মারা গেছে এমনটা মনে হয়নি। সঙ্গে সঙ্গে থানায় ফোন করলে ১৫ মিনিটের মধ্যেই ওসিসহ থানার ফোর্স ঘটনাস্থলে আসে। তারা সুরতহাল দেখে নিশ্চিত হয় আগেই হাসি বেগমকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে পরে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়া হয়েছে। হাসি বেগমের লাশ ছিল খাটের ওপর শোয়ানো অবস্থায়। ফলে সে পুড়ে মারা গেছে এমনটা মনে হয়নি।
তিনি আরও বলেন, সাত বছরের ছেলেকে বাসায় রাখা নিয়ে কমল ও হাসির মধ্যে ঝগড়া হয়েছিল।
হাসি বেগমের ভগ্নিপতি আসিফ দেশ রূপান্তরকে জানান, হাসি বেগমের আগের স্বামী ছিল লেগুনা চালক সুজন। তার সঙ্গে দেড় বছর আগে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। প্রায় ৮ মাস আগে স্থানীয় গ্যারেজ মালিক কমল হোসেনের সঙ্গে হাসি বেগমের দ্বিতীয় বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের মধ্যে আগের ঘরের ছেলেকে নিয়ে ঝগড়া হতো। হাসি বেগম বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু কমল তাতে আপত্তি করে।
হাসি বেগমকে হত্যার ঘটনায় তার বাবা আলতাফ ঢালী বাদী হয়ে কমলকে আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এই মামলায় পুলিশ কমলকে গ্রেপ্তার করে।
মুগদা থানার ওসি প্রণয় কুমার সাহা বলেন, হাসির শরীরের আনুমানিক ৪৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। হাসির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানার জন্য মরদেহ ময়নাতদন্ত করতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বেরিয়ে আসবে বলে জানান তিনি।
মামলার এজাহার অনুযায়ী নিহত হাসি বেগমের গ্রামের বাড়ি দিনাজপুরের পার্বতীপুর। স্বামী কমল হোসেনের সঙ্গে দক্ষিণ মুগদা ব্যাংক কলোনির ১/৩৯ নম্বর বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। ময়নাতদন্তের পর লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ।