বিআরটিএ (বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি) শরীয়তপুর কার্যালয়ের কতিপয় কর্মচারীর বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কার্যালয়ের সিল মেকানিক নজরুল ইসলাম অফিস কক্ষে বসে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছেনÑ এমন একটি ভিডিও পাওয়া গেছে। শরীয়তপুর বিআরটিএ কার্যালয় সূত্র জানায়, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নিচতলায় বিআরটিএর কার্যালয়। ওই কার্যালয় থেকে গ্রাহকরা যানবাহন ও মোটরসাইকেল নিবন্ধন, যানবাহনের রুট পারমিট ও ড্রাইভিং লাইসেন্সের সেবা নেন।
ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন ফি ৫১৮ টাকা। লাইসেন্স ফি ২ হাজার ৬০০ টাকা। আর মোটরসাইকেল নিবন্ধন ফি ১২ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা। কিন্তু বিআরটিএর কিছু কর্মচারী ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য ৬ হাজার থেকে ৮ হাজার আর মোটরসাইকেল নিবন্ধনের জন্য ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা অতিরিক্ত নিচ্ছেন।
শরীয়তপুর বিআরটিএতে মাস্টাররোলে চাকরি করছেন সিল মেকানিক নজরুল ইসলাম ও সহকারী সিল মেকানিক রাজীব সিকদার। তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ। তবে এরই মধ্যে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে রাজীব সিকদারকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
শরীয়তপুরের আংগারিয়া এলাকার বাসিন্দা কাজী মনিরুজ্জামান একটি বেসরকারি টেলিভিশনের স্থানীয় প্রতিনিধি। শরীয়তপুরের একটি দোকান থেকে তিনি গত বছর নভেম্বরে একটি মোটরসাইকেল কেনেন। মোটরসাইকেলটি নিবন্ধনের জন্য প্রতিষ্ঠানটি তার কাছে অতিরিক্ত ৩ হাজার টাকা দাবি করে। তিনি অতিরিক্ত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে সরকারি ফি ১২ হাজার ৮৬ টাকা ব্যাংকে জমা দিয়ে বিআরটিএ কার্যালয়ে যান। গত এক মাসে তিনি চার দফা কাগজপত্র নিয়ে বিআরটিএ ও মোটরসাইকেলের ওই দোকানে যান। কিন্তু কেউ তার কাগজ জমা রাখেনি।
কাজী মনিরুজ্জামান বলেন, ‘সরকার-নির্ধারিত টাকা ব্যাংকে জমা দিয়ে ঘুরছি। কিন্তু নিবন্ধন করার কাগজ জমা নিচ্ছে না।’
শরীয়তপুর পৌরসভার আটং এলাকার বাসিন্দা বজলুর রহমান অভিযোগ করেন, ড্রাইভিং লাইসেন্স করার জন্য গত মার্চ মাসে বিআরটিএ কার্যালয়ের সিল মেকানিক নজরুল ইসলাম তার কাছ থেকে ৮ হাজার টাকা আদায় করেন।
এ বিষয়ে সিল মেকানিক নজরুল ইসলাম জানান, অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার বিষয়টি ঠিক নয়। এক গ্রাহকের করা ভিডিওতে দেখা গেছে আপনি ঘুষের টাকা নিচ্ছেন এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘আমি কিছু জানি না, অফিসের স্যারের সঙ্গে কথা বলেন।’
নিরাপদ সড়ক চাই শরীয়তপুর জেলা কমিটির সভাপতি মুরাদ হোসেন মুন্সী বলেন, বিআরটিএকে পরিষ্কার করতে না পারলে সড়কে মৃত্যুর মিছিল থামবে না। ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ও গ্রাহকদের হয়রানির বিষয়ে জানতে চাইলে শরীয়তপুর বিআরটিএর সহকারী পরিচালক জি এম নাদির হোসেন বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর কিছু অভিযোগ পেয়ে রাজীব নামে এক কর্মচারীকে অফিস থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।