ঢাকায় শুরু হতে যাচ্ছে মেয়েদের ছয় জাতির আন্তর্জাতিক ফুটবল আসর বঙ্গমাতা অনূর্ধ্ব-১৯ নারী আন্তর্জাতিক গোল্ড কাপ।বঙ্গমাতা বেগম শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের নামে এই টুর্নামেন্টটিকে স্মরণীয় করে রাখার লক্ষ্য বাংলাদেশের মেয়েদের। চ্যাম্পিয়ন হওয়াই একমাত্র স্বপ্ন মৌসুমী-কৃষ্ণাদের।
বাংলাদেশসহ ছয়টি দেশের অনূর্ধ্ব-১৯ দল নিয়ে হতে যাচ্ছে এই ফুটবল আসর। প্রথমবারের মতো বঙ্গমাতার নামে কোনো আন্তর্জাতিক ফুটবল আসর এটি। এ কারণেই বাংলাদেশের মেয়েরা আসরটিকে নিয়েছে মর্যাদার লড়াই হিসেবে।
তাছাড়া গেল ক’বছরে বয়সভিত্তিক ফুটবলে একের পর এক সাফল্যের গল্প লিখেছে বাংলাদেশ। এএফসি অনূর্ধ্ব-১৪ আঞ্চলিক ফুটবলে টানা দুই বারের চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবলে টানা দ্বিতীয়বারের মতো সেরা আটে খেলবে মারিয়া-তহুরারা। সাফে অনূর্ধ্ব-১৫ পর্যায়ে একবার চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ হয়েছে মেয়েরা। গেল বছর প্রথম অনূর্ধ্ব-১৮ সাফেও লাল-সবুজের মেয়েরা লিখেছে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গল্প।
বলতে গেলে সেই অনূর্ধ্ব-১৮ দলটিই এবারের টুর্নামেন্টে খেলবে। বাংলাদেশ দলের কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন তাই টুর্নামেন্ট নিয়ে বড় স্বপ্নই দেখছেন। বৃহস্পতিবার দেশ রূপান্তরকে তিনি বলছেন, ‘‘মেয়েরা যেহেতু অনূর্ধ্ব-১৮ তে (সাফে) চ্যাম্পিয়ন। অনূর্ধ্ব-১৯ এর এই টুর্নামেন্ট তাই মেয়েদের জন্য চ্যালেঞ্জ। বিগত ক’বছর অনূর্ধ্ব-১৫, ১৬ ও ১৮ তে যে তারা ভালো করল, সেটিরই একটি এডিট টেস্ট হবে এই আসরে।’’
ছোটন যোগ করেন, ‘‘যেহেতু দেশের মাটিতে খেলা। শ্রদ্ধেয় বঙ্গমাতার নামে আসর। বাফুফে এবং কোচিং স্টাফ সবারই চাওয়া প্রথম টুর্নামেন্ট স্মরণীয় করে রাখতে। মেয়ের লক্ষ্য ভালো ফুটবল খেলা এবং ম্যাচ বাই ম্যাচ জিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়া।’’
আসরে দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলবে ছয়টি দল। স্বাগতিক বাংলাদেশ আছে ‘বি’ গ্রুপে। তাদের সঙ্গী- সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কিরগিজস্তান। ‘এ’ গ্রুপের তিন দল- মঙ্গোলিয়া, তাজিকিস্তান ও লাওস। এই টুর্নামেন্টকে বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য বড় পাওয়া হিসেবে দেখছেন কোচ ছোটন।
কিন্তু চ্যাম্পিয়ন হতে আসলে কতটা আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ? মেয়েদের কোচ বলছেন, ‘‘যারা আসছে সবাই শক্তিশালী দল। তবে বাংলাদেশ বিগত ক’বছরে বয়সভিত্তিকে অনেক সাফল্য এনেছে। এটা বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জ। আমরা সেই চ্যালেঞ্জটা নিচ্ছি। ভালো কিছু করার জন্য মেয়েদের চ্যালেঞ্জে জিততে হবে।’’
২২ এপ্রিল আসরের উদ্বোধনী ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ। কিরগিজস্তানের বিপক্ষে গ্রুপের দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচ ২৬ এপ্রিল। টুর্নামেন্টের দুটি সেমিফাইনাল ২৯ ও ৩০ এপ্রিল। ফাইনাল ৩ মে।