সাইফউদ্দিন জেতালেন আবাহনীকে

একা মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন জিতিয়েছেন আবাহনীকে এটা বললে অবশ্য গতকালের ম্যাচে নাজমুল হোসেন শান্ত, ওয়াসিম জাফর ও মোহাম্মদ মিঠুনের অংশীদারিত্বকে খাটো করা হয়। আসলে মিরপুরে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের বিপক্ষে ৬ উইকেটে আবাহনীর জয়ের ভিত্তি গড়েছেন সাইফই। সেই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে বড় জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন অন্যরা।

সাইফউদ্দিনের অসাধারণ বোলিংয়ের সামনে ৪৯.৩ ওভারে ২২৬ রানে অল আউট হয় প্রাইম ব্যাংক। জেতার জন্য ২২৭ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে ৩২ বল হাতে রেখে মাত্র ৪ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছায় আবাহনী। যদিও তাদের শুরুটা ভালো হয়নি। ওপেনার সৌম্য সরকার ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে শূন্য রানে আউট হন। জহুরুল ইসলাম ও সাব্বির রহমান দ্বিতীয় উইকেটে ৪৭ রান যোগ করেন। ব্যক্তিগত ২৪ রানে জহুরুল আউট হওয়ার পরপরই ফেরেন সাব্বির। তিনি করেন ২৬ রান। চতুর্থ উইকেটে ১২২ রানের জুটি গড়ে রান তাড়া করার কাজটা সহজ করে দেন ভারতের ওয়াসিম জাফর ও শান্ত। নাঈমের বলে বোল্ড হওয়ার আগে ৮০ বলে ৬৪ রান করেন জাফর। শেষ পর্যন্ত শান্ত ৮৪ বলে ৭৭ রানে অপরাজিত ছিলেন। শেষের দিকে মাত্র ২৪ বলে ৩৩ রানে অপরাজিত ছিলেন মিঠুন।

মিরপুরে গতকাল শুরুতেই ঝড় তুলে প্রাইম ব্যাংকের ইনিংসকে নড়বড়ে করে দেন মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা ও সাইফউদ্দিন। ইনিংসের প্রথম বল সাইফ আউট করেন অধিনায়ক এনামুল হক বিজয়কে। এরপর দ্বিতীয় ওভারে রুবেল মিয়াকেও আউট করেন। মাশরাফী আউট করেন সালমান হোসেনকে (১৬)। এরপর জাকির হোসেনকে তুলে নিলে ঘোর বিপদে পড়ে প্রাইম ব্যাংক। মাত্র ৩৮ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর আঘাত হানেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ফলে ৫৫ রানে ৫ উইকেট হারানো প্রাইম ব্যাংকের বড় রানের আশা শেষ হয়ে যায়। দলীয় ৬৬ রানের মাথায় ফেরেন আরিফুল হক। এরপর সপ্তম উইকেটে নাঈম হাসানকে নিয়ে ১০৮ রানের জুটি গড়েন অলক কাপালি। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ১১২ বলে ৮০ রান করেন তিনি। নাঈম করেন ৫১ রান। আবাহনীর পক্ষে ৩২ রানে ৫ উইকেট নেন ম্যাচসেরা সাইফউদ্দিন। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে এবারই প্রথম ৫ উইকেট নিলেন এ অলরাউন্ডার।

প্রাইম ব্যাংকে হারিয়ে সুপার লিগে ১৪ ম্যাচে ২২ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে আবাহনী। সমানসংখ্যক ম্যাচে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে যথারীতি শীর্ষে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ। গতকাল তারা ৭ উইকেটে হারিয়েছে প্রাইম দোলেশ্বর স্পোর্টিং ক্লাবকে। সাভারে দোলেশ্বরের অধিনায়ক মার্শাল আইয়ুব টস জিতে আগে ব্যাটিং করেন। ৪৫ ওভারে ২০৫ রানে অল আউট হয় তার দল। সর্বোচ্চ ৭২ রান আসে সৈকত আলীর ব্যাট থেকে। বিশ্বকাপের দল থেকে বাদ পড়া তাসকিন আহমেদ অসাধারণ বোলিং করেন। ৫৪ রানে ৪ উইকেট নেন এ ফাস্ট বোলার। ২০৬ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে শাহরিয়ার নাফীসের সেঞ্চুরিতে ৩৪ বল হাতে রেখে ৭ উইকেটে জেতে রূপগঞ্জ। ১৪২ বলে ১১ চার ও ১ ছক্কায় ১১৩ রানে অপরাজিত ছিলেন ম্যাচসেরা নাফীস।

ফতুল্লায় দিনের অন্য খেলায় মোহামেডান স্পোর্টিংকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাব। প্রথমে ব্যাট করে মোহামেডান ১৫৯ রানে অল আউট হয়। তুষার ইমরান করেন ৫৬ রান। তানবীর হায়দার ১৬ রানে পান ৪ উইকেট। জবাবে ৩৩.৩ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছায় ধানম-ির দলটি। ৮৫ বলে ৮৩ রানে অপরাজিত ছিলেন ম্যাচসেরা নুরুল হাসান।