লঞ্চমালিকদের দ্বন্দ্ব এবং নৌপরিবহন কর্র্তৃপক্ষের উদাসীনতায় বন্ধ হয়ে গেছে পটুয়াখালীর কলাপাড়া-নিজকাটা নৌরুটের লঞ্চ চলাচল। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছে এই রুটে চলাচলকারী হাজার হাজার মানুষ। কবে নাগাদ আবার এ রুটে লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক হবে, তা জানাতে পারেনি বিআইডব্লিটিএ কর্র্তৃপক্ষ এবং লঞ্চমালিকরা।
লঞ্চমালিক ও বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা যায়, চারদিকে নদীবেষ্টিত পটুয়াখালী জেলার রাঙ্গাবালী উপজেলার পাঁচটি দ্বীপ ইউনিয়নের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম নদীপথ। দীর্ঘদিন ধরে কলাপাড়া-নিজকাটা রুটে তানভীরের মালিকানাধীন সাইফান নামের একটি লঞ্চ চলাচল করত। পরবর্তী সময়ে যাত্রীদের চাহিদার বিপরীতে এমএল মিলন এক্সপ্রেস ও এমএল রাহাত নামের আরও দুটি লঞ্চ যুক্ত হয়।
প্রতিদিন কলাপাড়া থেকে সাইফান সকাল সাড়ে ৭টায়, এমএল মিলন এক্সপ্রেস সকাল সাড়ে ৮টায় এবং এমএল রাহাত, দুপুর ১টায় রাঙ্গাবালীর নিজকাটা ছেড়ে যেত। ১২ এপ্রিল সকালে বিআইডব্লিউটিএর নির্ধারিত সময় নিয়ে মালিকপক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হলে ওই দিন থেকে বন্ধ রয়েছে এ রুটের লঞ্চ চলাচল।
লঞ্চের জন্য ঘাটে সপরিবারে অপেক্ষমাণ যাত্রী সাইদ ফকির বলেন, ঢাকা থেকে এসে দেখি লঞ্চ চলাচল বন্ধ। আরেক লঞ্চযাত্রী রাসেল মিয়া জানান, লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দ্বিগুণ ভাড়া দিয়ে স্পিডবোট অথবা মাছ ধরার ট্রলারে চলাচল করতে হচ্ছে। নিজকাটা এলাকার মুদি ব্যবসায়ী মিঠু হাওলাদার বলেন, ‘চরম ঝুঁকি নিয়ে ছোট নৌযানে দ্বিগুণ ভাড়া দিয়ে পণ্য পরিবহন করতে বাধ্য হচ্ছি।’
সাইফানের মালিক তানভীর মুন্সী বলেন, ‘এ রুট চালু করতে গিয়ে গত সাড়ে তিন বছরে কয়েক লাখ টাকা লোকসান গুনেছি। রুটটি জমজমাট হয়ে ওঠার পরে অন্য দুটির মালিক সাবু গাজী ও এমাদুল আমার লঞ্চটির রুট পারমিট বাতিলের জন্য উঠেপড়ে লেগেছে।’ এমএল মিলন এক্সপ্রেসের মালিক সাবু গাজী বলেন, সাইফান নামের লঞ্চটি কোনো পারমিট ছাড়াই দীর্ঘদিন এ রুটে চলাচল করছে।
পটুয়াখালী বিআইডব্লিউটিএর সহকারী পরিচালক (বন্দর ও পরিবহন) খাজা সাদিকুর রহমান বলেন, ঝড়-বাদলের অশান্ত মৌসুম চলায় এ রুটে ছোট আকারের লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে।