নোয়াখালীর মূল ভূখণ্ড থেকে ৩৫ কিলোমিটার মেঘনা দ্বারা বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়া। এ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক্স-রে মেশিনটি নষ্ট। এ ছাড়া নির্দিষ্ট ভোল্টেজের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নেই। এ অবস্থায় এটি বাক্সবন্দি আছে ২৩ বছর ধরে। এতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে করাতে না পেরে সেবাবঞ্চিত রয়েছেন হাতিয়ার দরিদ্র মানুষ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, এক্স-রে কক্ষটি তালাবদ্ধ। রোগীদের এক্স-রে করার জন্য ছুটতে হচ্ছে হাতিয়ার বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বা হাতিয়ার বাইরের হাসপাতালে। ২৩ বছর আগেও এক্স-রে মেশিন না থাকায় রোগীরা এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কখনো এক্স-রে করাতে পারেননি।
গত বৃহস্পতিবার হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা জাহাজমারা ইউনিয়নের বিরবিরি গ্রামের আবদুল মোতালেব দেশ রূপান্তরকে জানান, তার ছেলে ইলিয়াছের (২১) কোমরে ব্যথাসহ অন্যান্য সমস্যা রয়েছে। চিকিৎসক ব্যবস্থাপত্রে তার কোমরের এক্স-রেসহ অন্যান্য পরীক্ষা করার কথা লিখেছেন।
আবদুল মোতালেব বলেন, এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে বা পরীক্ষাগুলো করা যায় না। স্থানীয় এক ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এক্স-রেসহ এসব পরীক্ষা করাতে দুই হাজার টাকা খরচ হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, প্রায় ২৩ বছর আগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরবরাহ করা ১০০ এমএ এক্স-রে মেশিনে নতুন অবস্থায়ও অপর্যাপ্ত বিদ্যুতের কারণে এক্স-রে করা সম্ভব হয়নি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নাজিম উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, মেডিকেল টেকনোলজিস্টের (রেডিওগ্রাফি) শূন্য পদ পূরণ এবং এক্স-রে মেশিনটি মেরামত করা অথবা নতুন এক্স-রে মেশিন সরবরাহ করার জন্য প্রতি মাসেই ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়।