প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণ, যুবলীগ নেতার আত্মসমর্পণ

মানিকগঞ্জে আপত্তিকর ভিডিও প্রকাশ করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে  এক প্রবাসীর স্ত্রীকে চার বছর ধরে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার আসামি মো. আলী হোসেন উজ্জ্বল (৪০) রবিবার দুপুরে মানিকগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন।

অভিযুক্ত আসামি মো. আলী হোসেন উজ্জ্বল মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার নালী ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার দরবেশ ব্যাপারীর ছেলে ও নালী ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।

এদিকে মামলা দেওয়ায় ঐ প্রবাসীর স্ত্রী ও তার পরিবার কে হুমকি দিয়ে আসছেন যুবলীগ নেতা আলী হোসেন, এমন অভিযোগ করে ভুক্তভোগী পরিবারটি বলেন, উজ্জ্বল নালী ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হওয়ায় তার বাহিনী নিয়ে মামলা নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করতে বারণ করেছেন। কথা না শুনলে পরিণাম ভয়াবহ হবে বলেও হুমকি দিচ্ছেন।

প্রবাসীর স্ত্রী  গত ১৬ এপ্রিল রাতে মানিকগঞ্জ সদর থানায় একটি ধর্ষণ  মামলা দায়ের করেন। যাতে তিনি উল্লেখ করেছেন, স্বামী বিদেশ থাকায় অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা আলী হোসেন উজ্জ্বল ওই নারীকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করতো। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এক পর্যায় তাকে ধর্ষণ করে তা ভিডিও ধারণ করে। পরে এ ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে টানা চার বছর ধরে ধর্ষণ করে। শুধু তাই নয়, আলী হোসেনের দুই দোকান কর্মচারীসহ অন্য ছেলেদের সঙ্গেও শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করা হতো তাকে।

এক পর্যায়ে আলী হোসেন তার স্কুল পড়ুয়া মেয়ের দিকে নজর দেয়। শর্ত দেয় মেয়েকে কাছে পেলেই কেবল ঋণের টাকা পরিশোধ করবে। বাধ্য হয়ে সোমবার  (১৫ এপ্রিল) দুপুরে আলী হোসেনের কথা মতো মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে তিনি মানিকগঞ্জ শহরের সেওতা এলাকায় মনিকা বেগমের বাসায় যান।

তিনতলা ভবনের চিলে কোঠার একটি রুমে আলী হোসেন ওই নারীর মেয়েকে ডেকে নিলে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। পরে তারা গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে ঘটনা জানাজানি হয়। এ সময় আলী হোসেন নিজের স্মার্টফোন ফেলে দ্রুত পালিয়ে যান।

পরের দিন ১৬ এপ্রিল ঐ নারী মানিকগঞ্জ সদর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা করেন। মামলার ৪ দিন পর আলী হোসেন উজ্জ্বল  মানিকগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করল।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আশরাফুল ইসলাম বলেন, উজ্জ্বলের অপকর্মে সহায়তার অভিযোগে অভিযুক্ত আরেক আসামি ওই বাড়ির মালিক মনিরা বেগম মনোয়ারাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. লুৎফর রহমান বলেন, প্রবাসীর স্ত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। বুধবারের মধ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় মেডিকেল রিপোর্ট পাঠানো হবে।

মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রকিবুজ্জামান রবিবার রাত সাড়ে ৭ টার দিকে বলেন, তারা আদালতের কাছে অভিযুক্ত আসামির ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছিলাম, কিন্তু শুনানি হয়নি। আমরা আশা করছি পর্ববর্তী তারিখে আমাদের রিমান্ড মঞ্জুর হবে।