গতকাল আবাহনী লিমিটেডকে ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের চ্যাম্পিয়ন করার পথে সৌম্য হাঁকিয়েছেন রেকর্ড ভাঙা ডাবল সেঞ্চুরি। বিকেএসপিতে শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাবের বিপক্ষে ২০৮ রানে অপরাজিত ছিলেন। ১৫২ বলের ইনিংসে ছিল ১৪ চার ও ১৬টি ছক্কার মার।
গেল ২০১৫ বিশ্বকাপের চমক ছিলেন সৌম্য সরকার। সেই থেকে মুগ্ধ করেছেন। আবার কখনো হতাশ করেছেন অফ ফর্মে জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ে। বিশ্বকাপ দলে আছেন। কিন্তু ওপেনিংয়ে তামিম ইকবালের সঙ্গে তার জায়গাটা পাকা না।
এবারের লিগেও সংগ্রাম করছিলেন রান পেতে। কিন্তু শেষ দুটি ম্যাচে তার ব্যাট যেন তরবারি হয়ে উঠল। আগের ম্যাচে ৭৯ বলে শেষে রানার্সআপ হওয়া লিজেন্ডস অফ রূপগঞ্জের বিপক্ষে ১০৬ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। আর গতকাল তো সব বোলারকে কচুকাটা করেছেন।
লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে সৌম্য বাংলাদেশের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিয়ান। ভেঙেছেন এক মৌসুম আগে রকিবুল হাসানের করা ১৯০ রানের ইনিংস। ইনিংসে ১৬ ছক্কা সীমিত ওভারের ক্রিকেটে বাংলাদেশের নতুন রেকর্ড। আগে ১১ রেকর্ডে যৌথভাবে নাম ছিল সৌম্যরও। কিন্তু এবার সেটি একার অধিকার। সিনিয়র পর্যায়ে এটা সৌম্যর প্রথম ডাবল। জহুরুল ইসলামের (১০০) সঙ্গে ওপেনিং জুটিতে ৩১২ রান। ২০১৭ সালে মাহবুবুল করিম ও ধীমান ঘোষ তৃতীয় উইকেটে ২৯০ রানের জুটি করেছিলেন। সেটা ভেঙেছেন সৌম্য-জহুরুল। জহুরুল যখন আউট হলেন তখন সৌম্যর ঠিক ২০১ রান। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে তাদের ট্রিপল সেঞ্চুরির জুটিটা ১৫তম। তবে রান তাড়া করতে নেমে প্রথম।
রেকর্ড গড়া ইনিংসের প্রথম ৫০ সৌম্য করেছেন ৫২ বলে। ৭৮ বলে তুলে ফেলেন সেঞ্চুরি। ১০৪ বলে দেড়শ হলেও এরপর একটু সতর্ক হয়েছেন। ১৪৯ বলে ডাবল সেঞ্চুরি করে উঠে গেছেন ইতিহাসের পাতায়।
এমন ইনিংসের পরও সৌম্য অবশ্য জানিয়েছেন, ‘আমরা পরিকল্পনা করছিলাম খুব স্বাভাবিক ক্রিকেট খেলব।’ ২৬ বছরের ব্যাটসম্যান লিগে বারবার কম রান করে আউট হচ্ছিলেন। এমন ইনিংসের পর পরিকল্পনা করেছেন মাঠেই, ‘যখন ৩০-৪০ রান করেছি, তখন মনে হয়েছে আজ এই রানে ফেরা যাবে না। আজ ৫০ করতেই হবে। মাঠেই পরিকল্পনা করেছি। আগ থেকেই পরিকল্পনা করে গেলে হচ্ছিল না। চিন্তা করছিলাম উইকেট ভালো ছিল। সুযোগ ছিল রানটা বড় করার।’