রাজশাহী-ঢাকা রুটে বিরতিহীন ট্রেন বনলতা এক্সপ্রেসের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে গণভবনে আয়োজিত ভিডিও কনফারেন্সে হুইসেল বাজিয়ে ও সবুজ পতাকা উড়িয়ে তিনি ট্রেনটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা ঘোষণা করেন।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আসন্ন ঈদ ও রাজশাহীর আমের কথা মাথায় রেখে এ সময়ে ট্রেনটির উদ্বোধন করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম সহ মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দ এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ভিডিও কনফারেন্সের অপর প্রান্তে রাজশাহী রেলস্টেশনে উপস্থিত ছিলেন রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন ও রাজশাহী সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন।
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে ‘বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য মিটারগেজ ও ব্রডগেজ প্যাসেঞ্জার ক্যারেজ সংগ্রহ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ইন্দোনেশিয়া থেকে ট্রেনের ব্রডগেজ কোচগুলো আনা হয়েছে।
বনলতা এক্সপ্রেস নামটি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই।
১২টি কোচ নিয়ে চলবে ট্রেনটি। আসন সংখ্যা ৯২৮। এর মধ্যে এসি চেয়ার ১৬০টি, শোভন চেয়ার ৬৪৪টি, খাবার গাড়িতে আসন ১০৮টি এবং পাওয়ার কার ১৬টি। শুক্রবার ছাড়া প্রতিদিন চলবে বনলতা এক্সপ্রেস।
ট্রেনটি রাজশাহী থেকে সকাল ৭টায় ছেড়ে ঢাকা পৌঁছাবে বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে এবং ঢাকা থেকে ছাড়বে বেলা সোয়া ১টায় এবং রাজশাহী পৌঁছাবে সন্ধ্যা ৬টায়। বনলতা এক্সপ্রেসের ভাড়া একই রুটে চলমান অন্যান্য ট্রেনের তুলনায় ১০ শতাংশ।
এ ছাড়া ট্রেনটিতে বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রথম নিজস্ব ক্যাটারিং অ্যান্ড টুরিজম সার্ভিসেস (বিআরসিটিএস) দ্বারা খাবার সরবরাহ করা হবে। খাবার মূল্য ১৫০ টাকাসহ শোভন চেয়ারের মূল্য ৪২৫ টাকা এবং এসি চেয়ারের মূল্য ৮৭৫ টাকা।
ট্রেনটিতে সংযুক্ত রয়েছে উড়োজাহাজের মতো বায়োটয়লেট। এ কারণে মলমূত্র রেললাইনের ওপরে পড়বে না। ট্রেনটিতে থাকছে রিক্লেনার চেয়ার। আছে ওয়াইফাই সুবিধা। প্রতিটি বগিতে রয়েছে এলইডি ডিসপ্লে। যার মাধ্যমে স্টেশন ও ভ্রমণের তথ্য প্রদর্শন করা হবে।