দীর্ঘ দুই দশক ধরে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১০ জেলার কৃষি ও জীববৈচিত্র্যের প্রাণখ্যাত গড়াই নদী খনন ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ায় খননকাজ বন্ধ করে দিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক। গতকাল শুক্রবার দুপুর ২টায় কুষ্টিয়া সদর উপজেলার গড়াই নদীর উৎসমুখ পরিদর্শনকালে মন্ত্রী সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গড়াই নদী আমি দেখেছি, আমি নিজেই খুব দুঃখ পেয়েছি। এই গড়াই খনন প্রকল্প যেভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছিল সেটা মোটেই কাক্সিক্ষত নয়, এটা এভাবে চলতে দেওয়া যায় না।’ তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান দৃশ্যে এই নদীটি যেভাবে একটা নালার মতো সংকীর্ণ হয়ে আছে, এভাবে ১০ বা ২০ মিটার চওড়া নালা নয় বরং এর নাব্যতা রক্ষায় ৩শ মিটার প্রশস্ত করে খননসহ পদ্মার পানি প্রবাহে সংযুক্ত করা হবে। জাহিদ ফারুক সাংবাদিকদের জানান, এই প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত তিনটি ড্রেজারের সঙ্গে আরও দুটি যুক্ত হয়ে একসঙ্গে কাজ করা হবে। সরকারের এই প্রকল্পে বরাদ্দকৃত কয়েক হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে হতাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, খনন কাজে যারা অনিয়ম-দুর্নীতি করেছেন তাদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসবে সরকার। এর আগে বেলা সাড়ে ১১টায় কুষ্টিয়া সার্কিট হাউস মিলনায়তনে প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক জেলা প্রশাসন ও আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম গড়াই খনন প্রকল্পে অনিয়ন ও দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অসত্য তথ্য দিয়ে সবাইকে অন্ধকারে রেখে গড়াই ড্রেজিংয়ের দায়িত্বে যারা আছেন তারা অনিয়ম ও দুর্নীতি করায় সরকারের গড়াই খনন প্রকল্প ভেস্তে গেছে। সরকারের শত শত কোটি টাকা প্রকল্প ব্যয় হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। সরকারের কিছু অসাধু লোকের দুর্নীতির কারণে সরকারের এ উদ্যোগ বিতর্কিত হয়েছে। তিনি গড়াই খনন প্রকল্পে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত অসৎ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন প্রমুখ।