বিশেষ কাউন্সিলে ড. কামাল

পুলিশ দায়িত্ব পালন করলে গণতন্ত্র থাকে

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘সুষ্ঠু গণতন্ত্র ও সংবিধানের শাসন তখনই থাকে, যখন পুলিশ তার দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করে।’ গতকাল শুক্রবার সকালে রাজধানীর গুলিস্তানে মহানগর নাট্যমঞ্চে গণফোরামের বিশেষ কাউন্সিলে এ কথা বলেন তিনি।

আট বছর পর গতকাল ফ্রন্টের অন্যতম শরিক গণফোরামের বিশেষ কাউন্সিল হয়। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংসদে যাওয়া এম মোকাব্বির খান যোগ দেওয়ায় সেখানে কিছুটা হট্টগোল হয়, কাউন্সিল ছেড়ে যান কয়েকজন নেতাকর্মী। এর প্রতিবাদে কাউন্সিলে যাননি গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক

 

 

মোস্তফা মহসিন মন্টু। সভাপতির বক্তব্যে ড. কামাল বলেন, ‘পুলিশ কিন্তু দেশের মালিক না, দেশের সেবক। আপনারা সতর্ক থাকবেন যে পুলিশ যেন তার ক্ষমতার বাইরে গিয়ে কোনো অন্যায়-অত্যাচার করতে না পারে।’

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণার রায় দেওয়ায় সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার প্রশংসা করে গণফোরাম সভাপতি বলেন, ‘তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। মৌলিক অধিকার রক্ষা করার ব্যাপারে তিনি ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছেন।’

ষোড়শ সংশোধনীর ব্যাপারে বিচার বিভাগের ভূমিকার কথা স্মরণ করে প্রবীণ এই আইনজীবী বলেন, ‘আদালত কঠিন কঠিন সময়ে শক্ত অবস্থান নেয়। বিচার বিভাগের ওপর নির্বাহী বিভাগ বা অন্য কোনো মহল থেকে চাপ পড়ছে কি না, নিয়মও ঠিকমতো হচ্ছে কি না, সেসব বিষয়ে জনগণ সচেতন থাকলে বিচার বিভাগ স্বাধীন থাকে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আদালত রায় দেওয়ার পর বিচারককে সরিয়ে দেওয়া হলে তখন আর স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন সম্ভব হয় না।’

সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় সংগীত ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে গণফোরামের কাউন্সিল শুরু হয়। দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মোশতাক আহমেদের সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন সুব্রত চৌধুরী, রেজা কিবরিয়া, জগলুল হায়দার, অধ্যাপক আবু সাঈদ প্রমুখ। সর্বশেষ কাউন্সিল হয় ২০১১ সালের ডিসেম্বরে। ১৯৯২ সালে আওয়ামী লীগ ছাড়ার পরের বছর গণফোরাম গঠন করেন ড. কামাল।

মোকাব্বিরকে নিয়ে হট্টগোল : দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়া মোকাব্বির খান কাউন্সিল মঞ্চে থাকায় হট্টগোল হয়; ক্ষুব্ধ কয়েকজন নেতাকর্মী কাউন্সিল থেকে বেরিয়ে যান। এর প্রতিবাদে কাউন্সিল বর্জন করেন গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু।

মঞ্চে প্রথম সারিতে অনুষ্ঠানের সভাপতি ড. কামালের আসনের তিন চেয়ারের পরেই বসেন মোকাব্বির খান।

একাদশ সংসদ নির্বাচনে সিলেট-২ আসনে ফ্রন্টের ব্যানারে গণফোরামের ‘উদীয়মান সূর্য’ প্রতীকে বিজয়ী হন মোকাব্বির। পরে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংসদে যাওয়ায় প্রেসিডিয়াম সদস্য মোকাব্বিরের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার নেওয়ার দাবি ওঠে। মোকাব্বির শপথ নেওয়ার পর সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ড. কামালের অনুমতি নিয়েই তিনি শপথ নিয়েছেন। দুদিন পর মতিঝিলের আইনি চেম্বারে গেলে ড. কামাল তাকে বলেন, ‘আপনি এখান থেকে বেরিয়ে যান, গেট আউট। আমার চেম্বার ও অফিস আপনার জন্য চিরতরে বন্ধ।’

জাতির সঙ্গে প্রতারণা : কাউন্সিল অধিবেশন বর্জনের কারণ জানতে চাইলে মোস্তফা মহসিন মন্টু দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দলের সিদ্ধান্ত অমান্যকারী মোকাব্বিরের বিশেষ কাউন্সিলে আসা অগ্রহণযোগ্য ও অনৈতিক কাজ হয়েছে। এটা জাতির সঙ্গে প্রতারণা হয়ে গেছে। আমি এ রকম সম্মেলনে যাব না।’

মোকাব্বিরকে নিয়ে কাউন্সিলে হট্টগোলের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি জানি ও শুনেছি ঘটনা। হাউসে অনেকে বিরোধিতা ও প্রতিবাদ করেছেন। এটা সভাপতি বলতে পারবেন কেন গেলেন, কীভাবে গেলেন? তাকেই (ড. কামাল) জিজ্ঞাসা করুন।’