পীরের ভাইয়ের সেই ছবি নিয়ে নারায়ণগঞ্জে তোলপাড়

জৈনপূরী পীরের ভাই নেয়ামতউল্লাহ আব্বাসীর একটি ছবি নিয়ে নারায়ণগঞ্জের সর্বত্র তোলপাড় চলছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও চলছে সমালোচনার ঝড়। ছবিতে দেখা গেছে জঙ্গিদের মতো কাবলি পড়া, বুকে কোমরে কালো বেল্ট, হাতে রিভলবার এবং ডানদিকে দেয়াল ঘেঁষে রাখা একটি অত্যাধুনিক এসএমজি। ছবিটি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর আলোচনার ঝড় উঠলে প্রশাসনের টনক নড়ে । তবে অভিযানের আগেই সটকে পড়েন নেয়ামতউল্লাহ।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সিদ্ধিরগঞ্জের পাঠানটুলী এলাকায় জৈনপুরী পীর এনায়েত উল্লাহ আব্বাসীর ছোট ভাই নেয়ামতউল্লাহ আব্বাসীর নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) রাত ১২টার দিকে একটি গার্মেন্টসে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে নেয়ামতউল্লাহ আব্বাসীর নেতৃত্বে তার অনুগামীরা পুলিশের উপরেও হামলা চালায়। পরে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসির নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে নেয়ামতউল্লাহ আব্বাসীর ৪ সহযোগীকেও গ্রেপ্তার করলেও পালিয়ে যায় আব্বাসী।

এ ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় নেয়ামতউল্লাহ আব্বাসীসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত দেড় শ জনের বিরুদ্ধে এইচ এন অ্যাপারেলস লিমিটেড নামের গার্মেন্টসের কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়ের পরই পালিয়ে যায় নেয়ামতউল্লাহ আব্বাসী। পরদিন গণমাধ্যমে সেই আলোচিত ছবিটি প্রকাশ পায়।

এ ব্যাপারে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ শাহিন শাহ পারভেজ দেশ রূপান্তরকে বলেন, সিদ্ধিরগঞ্জের পাঠানটুলি এলাকায় আব্বাসী মঞ্জিল নামে তাদের একটি খানকা রয়েছে। সেটি জৈনপূরী দরবার নামে পরিচিতি। ছবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই ছবি আমরাও প্রথম দেখলাম। ছবির লোকটি নেয়ামতউল্লাহ আব্বাসী বলে নিশ্চিত করা গেছে। তার বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ভাঙচুর ও লুটপাটের মামলাও রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশ সূত্র জানায়, চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি দুপুরে নারায়ণগঞ্জ শহরের নবীগঞ্জ ফেরিঘাট এলাকায় দু’টি লঞ্চে নাশকতার উদ্দেশ্যে গোপন বৈঠক চলাকালে জৈনপুরী হুজুর এনায়েতউল্লাহ আব্বাসীর বড় ভাই সৈয়দ ইমদাদ উল্লাহ আব্বাসীসহ জামায়াত ও শিবিরের ১০ নেতা-কর্মীকে আটক করে ডিবি। এ ঘটনায় সদর থানায় নাশকতার পরিকল্পনার মামলা হয়েছে।

এদিকে র‌্যাব-১১ এর অপারেশন কর্মকর্তা এএসপি আলেপউদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ছবিটি আমরা সংগ্রহ করেছি। খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে। জঙ্গিবাদে জড়িত কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।