লঙ্কার প্রত্যন্ত শহরে চরমপন্থার বিস্ফোরণ

শ্রীলঙ্কার কাত্তানকুড়ি শহরের প্রবেশমুখেই নজরে পড়বে আরবি ক্যালিওগ্রাফিতে লেখা স্বাগতবাণী। বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ শ্রীলঙ্কায় এমন একটি শহর, যেখানে প্রতি গলিতে মসজিদ দেখা যাবে। দেশটির অন্য অঞ্চলের মতো কাত্তানকুড়ি শহরও ইস্টার সানডে বোমা হামলার আঘাতে জর্জরিত।

ইস্টার সানডে বোমা হামলার মূল পরিকল্পনাকারী জাহরান হাশিমের বাড়ি এই শহরেই। এখানেই গড়ে তোলা হয় ন্যাশনাল তাওহিদ জামায়াত (এনটিজে)। এই দলটি কাত্তানকুড়ির মুসলিম বাসিন্দাদের মধ্যে নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করে জাহরানের হাত ধরে। শ্রীলঙ্কার প্রশাসনের নাকের ডগায় বসে চরমপন্থার শিক্ষা দেওয়া হচ্ছিল। কাত্তানকুড়িতে প্রায় ৫০ হাজার মুসলিমের বসবাস। গত এক দশকে শ্রীলঙ্কার মুসলিম সম্প্রদায় বেশ কয়েকবার হামলার শিকার হয়। এই পরিবর্তিত অবস্থার মধ্যেই শহরটির উদারপন্থি মুসলিম চরিত্র ক্রমশ পাল্টে চরমপন্থি চেহারা পায়। এই শহরে বসেই যে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সন্ত্রাসী সংগঠন ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছিল কিছু তরুণ, তা কেউ জানতে পারেনি। শ্রীলঙ্কা পুলিশের দাবি, জাহরান ছাড়াও হামলাকারী বাকিরাও এই শহর থেকেই এসেছে। কাত্তানকুড়ি থেকে হামলাকারী নাসের মোহাম্মদ আজারের মাকে গত বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান শহরের পুলিশ স্টেশনের দায়িত্বরত কর্মকর্তা কাসুরি।

জাহরানের ছোট বোন মোহাম্মদ হাশিম মাদানিয়া ওয়াশিংটন পোস্টকে জানান, তিনি ও তার স্বামী ২০১৭ সাল থেকেই জাহরানের বক্তব্য এবং চলাফেরা নিয়ে অস্বস্তিতে ছিলেন। মাদানিয়া আরও বলেন, ‘জাহরান তখন বলত শ্রীলঙ্কা একসময় মুসলিমদের ভূমি ছিল। অন্যরা মুসলিমদের শাসন করবে তা মেনে নেওয়া উচিত হবে না। আমরা এখনো বিশ্বাস করতে পারছি না সে কীভাবে পরিবর্তিত হয়েছে।’ কাত্তানকুড়ির অন্য মুসলিম সংগঠনগুলোর সঙ্গে ছিল এনটিজের মতাদর্শিক দ্বন্দ্ব। ধীরে ধীরে এনটিজের অফিসে সাধারণ মুসলিমদের আনাগোনা বাড়ছিল। জাহরানের উগ্র বক্তব্যে ক্রমশ অনেকেই অনুপ্রাণিত হচ্ছিলেন। ইস্টার সানডের এই হামলার পরের শুক্রবারও এনটিজের অফিসে অনেককে জামাতে নামাজ পড়তে দেখা যায়।

এনটিজের বর্তমান নেতা মোহাম্মদ তৌফিক। ওয়াশিংটন পোস্ট তার কাছে ইস্টার সানডের হামলার সঙ্গে এনটিজের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি তা অস্বীকার করেন। শ্রীলঙ্কা সরকার এখনো এনটিজের বিরুদ্ধে আইনানুগ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।