৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের পর সংসদে যাওয়া-না যাওয়াসহ বিভিন্ন ইস্যুতে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরামে। সে সবের জের ধরে ভাঙনের মুখে পড়েছে দলটি। গত শুক্রবার বিশেষ কাউন্সিল হলেও নতুন কমিটি করতে পারেনি গণফোরাম। এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গণফোরামের এক প্রেসিডিয়াম সদস্য গতকাল শনিবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক প্রার্থী হওয়ায় কাউন্সিলররা বিষয়টি সুরাহার জন্য সভাপতি ড. কামাল হোসেনকে দায়িত্ব দিয়েছেন। গুঞ্জন আছে, বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীন মন্টুু বাদ পড়ছেন। নতুন সাধারণ সম্পাদক হচ্ছেন দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য রেজা কিবরিয়া। দলের সভাপতিরও পছন্দ তাকে।
কাউন্সিলের পর নতুন কমিটি ঘোষণা না হওয়ার কারণ জানতে গতকাল গণফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য রেজা কিবরিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, রেওয়াজ অনুযায়ী কাউন্সিলররা দলের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের ওপর নতুন কমিটি ঘোষণার দায়িত্ব অর্পণ করেছেন। দুই সপ্তাহের মধ্যে সভাপতি নতুন কমিটি ঘোষণা দেবেন। এর আগের কাউন্সিলেও এমনটা হয়েছে।
দলের মধ্যে গুঞ্জন আছে আপনি গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক হচ্ছেন এ কথা উল্লেখ করে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি এখনো ঠিক হয়নি। তা ছাড়া আরও প্রার্থী আছেন সাধারণ সম্পাদক হিসেবে। যেহেতু কাউন্সিলররা সভাপতিকে দায়িত্ব দিয়েছেন সেহেতু দেখা যাক দুই সপ্তাহ পর তিনি কাকে সাধারণ সম্পাদক করেন।
১৯৯২ সালে আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে পরের বছর গণফোরাম গঠন করেন ড. কামাল হোসেন। দলটির সর্বশেষ কাউন্সিল হয় ২০১১ সালের ডিসেম্বরে। গণফোরামের প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম পথিকের অভিযোগ, ড. কামাল হোসেন স্বৈরাচারী আচরণ করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গণফোরামের ওই প্রেসিডিয়াম সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, নির্বাচনের পর দলের নির্বাচিত দুই সংসদ সদস্য এম মোকাব্বির খান ও সুলতান মোহাম্মদ মনসুরের শপথ গ্রহণ নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়। দলের সিদ্ধান্ত ছিল তারা শপথ নেবেন না, কিন্তু দুজনই নিয়েছেন। শপথ নেওয়ার আগে তারা গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের সবুজ সঙ্কেতের কথা উল্লেখ করেছেন। কিন্তু সভাপতি দলের কোনো বৈঠকে এই নিয়ে কথা বলেননি।
সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার এক দিন পর মোকাব্বির খান রাজধানীর মতিঝিলে ড. কামালের আইনি চেম্বারে যান। সে সময় ‘গেট আউট’ বলে নিজের চেম্বার থেকে তাকে তাড়িয়ে দেন ড. কামাল। এরপর গত ২০ এপ্রিল দলের বৈঠকে মোকাব্বির খানকে শোকজের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু শোকজের পর গত শুক্রবার ২৬ এপ্রিল মহানগর নাট্যমঞ্চে অনুষ্ঠিত বিশেষ কাউন্সিলে যোগ দেন মোকাব্বির খান। এই নিয়ে সভায় হট্টগোল হয়। শোকজের পরও মোকাব্বির খান দলের কাউন্সিলে যোগ দেওয়ায় কাউন্সিল বর্জন করেন মোস্তফা মোহসীন মন্টু। তিনি আর গণফোরাম করবেন না বলেও ঘোষণা দেন।
এ বিষয়ে জানতে মন্টুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, মোকাব্বির খানকে গত ২০ এপ্রিলের সভায় শোকজ করার সিদ্ধান্ত হয়। ওইদিনই তিনি শোকজের চিঠি টাইপ করে তাতে স্বাক্ষর করে রাখেন। সেদিনই শোকজের চিঠি মোকাব্বির খানের কাছে পাঠানোর কথা ছিল। চিঠি পাঠানোর পর শোকজ করা নেতা কীভাবে কাউন্সিলে যোগ দেন? তা হলে কি মোকাব্বিরকে চিঠি পাঠানোই হয়নি? মন্টু জানান, গত ২০ এপ্রিল মোকাব্বির খানকে শোকজের সেই চিঠিতে স্বাক্ষরের পর আর দলের কার্যালয়ে যাননি। কাউন্সিলেও যোগ দেননি।
নতুন কোনো দল করছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে এখনই কিছু ভাবছি না।
শোকজের চিঠি পেয়েছিলেন কি না জানতে মোকাব্বির খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, ‘কোনো চিঠি আমি পাইনি। দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে আমি কাউন্সিলে যোগ দিয়েছি। এর আগে ২০ এপ্রিল দলের যে বৈঠক হয়, তাতে অংশ নিতে পারেননি কাজের ব্যস্ততায়।’
দলের মহাসচিব হচ্ছেন কি না জানতে চাইলে মোকাব্বির খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এমন কোনো ইচ্ছে আমার নেই। একজন সংসদ সদস্য হিসেবে আমি সংসদে যোগ দিয়ে আমার এলাকার উন্নয়ন ও দেশের উন্নয়নে ব্যস্ত থাকতে চাই।’
মোকাব্বির খানকে শোকজের চিঠি পাঠানোর বিষয়ে জানতে চাইলে গণফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, শোকজের চিঠি পাঠানো হয়েছিল। তা ছাড়া ২০ এপ্রিলের বৈঠকের সিদ্ধান্ত দেশবাসী জানে। মোকাব্বির খান না জানলে কিছু করার নেই। চিঠি না পেলে তাকে আবার পাঠানো হবে।