আড়াইহাজারে ফের মারধরের শিকার হয়েছে পুলিশ। শনিবার রাত ৮টায় একটি পিকআপভ্যান আটককে কেন্দ্র করে একজন এসআইসহ ৪ পুলিশ সদস্যকে পিটুনি দিয়ে আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে আটকে রাখে। খবর পেয়ে আড়াইহাজার থানার ওসির নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যানের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করে। এ ঘটনায় চরম উত্তেজনা দেখা দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শনিবার রাতে আড়াইহাজার উপজেলার ব্রাক্ষনদী ইউনিয়নের লস্করদী এলাকায় এসআই নাজমুল হোসেনের নেতৃত্বে সাদা পোশাকের ৪ পুলিশ স্থানীয় আমানউল্লাহর পিকআপভ্যান জোর করে থানায় নিয়ে আসতে চায়। আমানুল্লাহ পিকআপ নিয়ে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন তারা। পিকআপের মালিক এ ঘটনা ব্রাক্ষনদী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন খোকার ম্যানেজার টিপু মিয়াকে জানালে ঘটনাস্থলে এসে গাড়ি আটকের কারণ জিজ্ঞেস করা মাত্রই পুলিশ মারধর শুরু করে।
এ খবর ছড়িয়ে পড়লে গ্রামবাসী কয়েকশ লোক জড়ো হয়ে এসআই নাজমুলসহ ৪ পুলিশ সদস্যকে মারধর করে। পরে তাদেরকে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন খোকার বাড়িতে আটক করে রাখে।
খবর পেয়ে আড়াইহাজার থানার ওসি আক্তার হোসেনের নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ৪ পুলিশ সদস্যদের উদ্ধারে ব্যর্থ হয়। পরে স্থানীয় চেয়ারম্যান লাক মিয়া ও ৪ নং ওয়ার্ড মেম্বার খোকার সহায়তায় পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
পুলিশের পিটুনিতে আহত টিপু মিয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, “পুলিশকে পিকআপ আটকের কারণ জিজ্ঞেস করতেই আমাকে পেটাতে থাকে।”
ব্রাক্ষনদী ইউপি চেয়ারম্যান লাক মিয়া জানান, পুলিশ টিপুকে বেদম পেটানোর কারণে গ্রামবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশের উপর চড়াও হয় এবং আটক করে।
এ ব্যাপারে আড়াইহাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আক্তার হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, পিকআপভ্যান নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ঝগড়া হলে টহল পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে পুলিশকে মারধরের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।
উল্লেখ্য, ১৭ এপ্রিল আড়াইহাজারের গোপালদী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করে ৩ পুলিশ সদস্যকে মারধর করে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। এ ঘটনায় ছাত্রলীগ নেতাকে আটক করা হলেও নেতা-কর্মীরা থানা ঘেরাও করলে চাপের মুখে ঐ ছাত্রলীগ নেতাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। এ নিয়ে দেশ রূপান্তরসহ বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর পুলিশ এ ঘটনায় মামলা করেন।
এর আগে ২৯ মার্চ আড়াইহাজার থানায় ঢুকে পুলিশ সদস্যকে হত্যার হুমকি দেয় স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা। হুমকির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। পরে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যস্থতায় মীমাংসা হয়েছে বলে জানা গেছে।