পশ্চিমের কোন্দলে মজবুত হচ্ছে চীন

আগামী কয়েক মাসে বিশ্বের বর্তমান ও পূর্বেকার পরাশক্তিগুলো নিজেরাই বিপুল ক্ষতি ডেকে আনবে। এর সবচেয়ে বড় বলি হতে পারে গণতন্ত্র। আর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এই বলয়ে বাস করা প্রায় ৪০০ কোটি মানুষ। লন্ডন ও ওয়াশিংটনের পরিস্থিতি যখন উত্তপ্ত, চীনের নজর তখন নিজেদের প্রবৃদ্ধিতে।

সিএনএনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, চলতি সপ্তাহে চীনের ভবিষ্যৎ বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রণের বড় ধরনের মহড়া দেখা যায়। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের নেতারা চীনের বেল্ট ও রোড উদ্যোগের (বিআরআই) আওতায় লোভনীয় প্রকল্প বাগিয়ে নিতে দেশটির রাজধানী পেইচিংয়ে জড়ো হন। বিশ্বকে চীনের অর্থনৈতিক বাহুডোরে আনতে প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সবচেয়ে বহুল আলোচিত নীতি এই বিআরআই। এর মধ্য দিয়ে বড় পরিসরে অবকাঠামো নির্মাণ, পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমের চীনের সঙ্গে সারা বিশ্বের সম্পর্ক তৈরি এবং দেশটির ওপর নির্ভরশীলতা বাড়াতে চান তিনি।

বিআরআইয়ের অধীনে দ্রুতই বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি হতে চলা চীনের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যের প্রতিশ্রুতি উপেক্ষা করা অনেকের জন্যই কঠিন। শি তেমনটাই করছেন, যা বেশির ভাগ উচ্চাকাক্সক্ষী সাম্রাজ্যগুলো করে থাকে। তিনি চান বিশ্বকে নির্ভরতার জালে জড়ানোর মাধ্যমে ধীরে ধীরে অন্য শক্তিগুলোর বাইরে প্রভাব বলয় তৈরি করা। পেইচিংয়ে তার উচ্চাভিলাষের মহড়া দৃশ্যত যথাসময়ে হয়েছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য নিজেদের সৃষ্ট রাজনৈতিক সংকটে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে পড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে রুশ সংযোগ নিয়ে তার সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থানে ডেমোক্র্যাটরা। আগামী দিনগুলোতে এ দ্বন্দ্ব আরও বাড়বে। জো বাইডেনের মতো ঝানু রাজনীতিক প্রেসিডেন্ট পদে লড়ার ঘোষণার পর এমনটি আরও বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বেরিয়ে আসা নিয়ে সংকটে রয়েছে যুক্তরাজ্য। মজার বিষয় হলো, ব্রেক্সিটের সবশেষ তারিখ পড়েছে হ্যালোইন উৎসবে।

এ দুটি দেশ এখনো তার দিক পাল্টিয়ে দেখাতে পারে, বর্তমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা গণতন্ত্রের বর্ধিষ্ণু যন্ত্রণায় আরেকটি সুচালো বস্তুর আঘাতের বাইরের কিছু নয়। কিন্তু গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি পশ্চিমাদের অন্ধবিশ্বাস তাদের ঠুলি পরিয়ে রেখেছে। ফলে তাদের সামনেই বিশ্বের উদীয়মান শীর্ষ ক্ষমতাধর চীন গণতন্ত্রের দুর্ভাগ্যের সুযোগ নিচ্ছে।

চীন গণবিতর্কহীন এমন এক সমাজ বিনির্মাণ করছে, যেখানে অনির্বাচিত রাষ্ট্রীয় কর্তাব্যক্তিরা কর্মস্থলে পদোন্নতি, ভ্রমণ, গৃহায়ন ও জনকল্যাণের মতো বিষয়গুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করে। দেশটি নিজের জনগণকে এমনভাবে হাতের মুঠোয় রেখেছে যে, তাকে গণতান্ত্রিক সমাজে বাস করা কেউই সমর্থন করতে পারে না। কিন্তু পশ্চিমের বৃহদার্থে সহিষ্ণু সমাজ (যা নেতাদের ওপর বিশ্বাসের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে) দৃশ্যত ব্যক্তিগত আক্রমণে লিপ্ত হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে যেকোনো দেশের গণতন্ত্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ বিশ্বাস নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।