খুলনায় সড়কে আ.লীগ নেতার চাঁদাবাজি

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার শাহ্পুর-সন্ন্যাসগাছা সড়কে চলাচলকারী বিভিন্ন যানবাহনের চালকদের কাছ থেকে প্রায় তিন বছর ধরে চাঁদা আদায় করছেন যশোরের কেশবপুর উপজেলার গৌরীঘোনা ইউপির চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান। প্রতিদিন প্রায় দেড় লাখ টাকার চাঁদাবাজি হলেও ভুক্তভোগী চালকরা ভয়ে তা নীরবে সহ্য করছেন। 

খুলনা-সাতক্ষীরা সড়কের শাহ্পুর থেকে সন্ন্যাসগাছা পর্যন্ত রাস্তার দৈর্ঘ্য প্রায় ১৩ কিলোমিটার। এর মধ্যে ৫ কিলোমিটার খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার মধ্যে। বাকি ৮ কিলোমিটার যশোরের কেশবপুর উপজেলার গৌরীঘোনা ইউনিয়নের সন্ন্যাসগাছা সেতু পর্যন্ত।

চালকরা জানান, এ সড়কে প্রতিদিন ৩০টি মাহেন্দ্র, ৩০টি ইজিবাইক ও ১০টি লেগুনা চলাচল করে। এসব যানবাহন শাহপুর থেকে চুকনগর বাজার হয়ে সন্ন্যাসগাছা সেতুর নামনে গিয়ে আবার ঘুরে আসে। সেতুসংলগ্ন সড়কের পাশে চালকরা একটি অস্থায়ী গাড়িস্ট্যান্ড তৈরি করেছেন। ওই সড়কে গাড়ি চালাতে হলে প্রতিদিন প্রতিটি মাহেন্দ্রর জন্য ৪০ টাকা, ইজিবাইকপ্রতি ৩০ টাকা ও প্রতিটি লেগুনার জন্য ৬০ টাকা দিতে হয়। চালকদের ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করেন হাবিবুর চেয়ারম্যানের সাত প্রতিনিধি।

তারা আরও জানান, স্ট্যান্ডে দাঁড়ালে বা সেখান থেকে যাত্রী ওঠালেই তাদের চাঁদা দিতে হয়। কেন এই চাঁদা নেওয়া হচ্ছে- তা চালকরা জানতে চাইলে তাদের মারধর করা হয়। গাড়ি চালাতে দেওয়া হয় না। দীর্ঘদিন ধরে এই চাঁদাবাজি চলে এলেও ভয়ে তারা পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন না।

গত শুক্রবার চালক সেজে দেশ রূপান্তরের এই প্রতিবেদক ওই গাড়ির স্ট্যান্ডে যান। চাঁদা আদায়ের জন্য সেখানে একটি ঘর করা হয়েছে। এটাকে স্ট্যাটারদের ঘর নামে চালকরা সবাই চেনে। ওই ঘরে বসে চাঁদা আদায়কারী মো. হাবুর সঙ্গে এই প্রতিবেদকের কথা হয়। হাবু বলেন, ‘কে কবে ডিউটি করে জানি না। সব আমার দেখা লাগে।’ চাঁদা আদায়ের বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘চাঁদাবাজি করে খাচ্ছি। কী আর করব।’

সম্প্রতি ওই সড়কে ইজিবাইক চালানো বন্ধ করে দিয়েছেন চালক বশির আহমেদ। তিনি বলেন, প্রতিদিন ৩০ টাকা করে দিয়ে পোষায় না। টাকা না দিলে মারধর করে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক চালক বলেন, ‘প্রশাসনও চেয়ারম্যানের সঙ্গে আছে। তা না হলে এভাবে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি সম্ভব হতো না। এটা নিয়ে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে একাধিকবার আমরা মিটিং করেছি। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।’

তবে চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করেন ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘স্ট্যাটাররা সিরিয়ালের জন্য কিছু টাকা নেয়। এটাকে চাঁদাবাজি বলে নাকি? এটা গাড়ির মালিক ও চালকের ব্যাপার।’ চাঁদা আদায়কারীদের বিষয়ে জানতে চাইলে এই আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ‘আমাদের দলের কয়েকটা ছেলে সেখানে কাজ করে।’

এ বিষয়ে কেশবপুর থানার ওসি শাহিন বলেন, ‘এ রকম বিষয় তো জানি না। তারপরও লোক পাঠিয়ে খোঁজ নিচ্ছি।’