অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ৩৫ ডিগ্রি তাপমাত্রা চলাকালে কম্বল বিতরণ করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. জুবায়ের হোসেন চৌধুরী।
তবে নিজের ফেসবুক পেজে তিনি এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন। রোববার তিনি ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন, 'হ্যাঁ, আমিই সেই ইউএনও,যিনি তীব্র গরমে আগুনে পুড়ে সর্বস্ব হারানো পরিবারকে সাহায্য হিসেবে তাৎক্ষণিকভাবে কম্বল বিতরণ করে মহা অপরাধ করেছি'।
তিনি লেখেন, 'ঘটনাটি যেদিন ঘটে ওইদিনই আমি জানতে পারি ফেসবুকের মাধ্যমে, কালক্ষেপণ না করে ছুটে যাই ক্ষতিগ্রস্তের বাড়িতে, গিয়ে দেখি পরনের কাপড় ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। আমি তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কয়েকটি কম্বল দেই অন্তত রাতে এটা বিছিয়ে শুতে পারে। এবং নতুন ঘর তৈরি করার জন্য সহযোগিতার আশ্বাস দেই।'
'তখন আমার মাথায় ছিল কিভাবে দ্রুত এদের পুনর্বাসন করা যায় । দিনটি ছিল শনিবার যার কারণে অন্য কোন সরকারি সাহায্য (যেমন টিন, নগদ টাকা) দেয়া ওই মুহূর্তে সম্ভব ছিল না এবং স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে তাদের সহযোগিতার পরামর্শ দেই।'
ইউএনও আরো জানান, 'পরিস্থিতি আমি জেলা প্রশাসক মহোদয়কে ফোনে ও লিখিতভাবে অবহিত করি। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সহযোগিতায় তাদের নতুন ঘর তৈরি করার জন্য ৪ বান্ডিল ঢেউটিন ও নগদ ১২ হাজার টাকা প্রদান করা হয় এবং উপজেলা থেকে তাদের স্কুল পড়ুয়া ২ টি সন্তানকে শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থা করা হয়'।
'একজন সরকারি কর্মচারী হিসেবে যতটুকু আইনের মধ্য থেকে করা যায় আমরা তার সর্বোচ্চ চেষ্টা করি। তাদের ওই অবস্থা দেখে মনে হয়েছিল অন্তত তারা এই মুহূর্তে কিছু পাক'।
তিনি জানান, 'অন্য কোন ব্যাপার তখন আমার মাথায় আসেনি। আমি তখন বুঝতে পারিনি এই অপরাধের কারণে আমাকে এতবড় কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে, তীব্র সমালোচনার শিকার হতে হবে'।
শুক্রবার কুষ্টিয়ার হরিপুরে অগ্নিকাণ্ডে দিনমজুর জাকিরুলসহ দুটি পরিবারের সদস্যদের সবকিছু পুড়ে যায়। এদিন ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করেন ইউএনও। এরপরই তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি।