১২ টাকার ওষুধ ৩’শ টাকায় বিক্রি!

লক্ষ্মীপুর শহরের বিভিন্ন ওষুধের দোকানে অতিরিক্ত দামে বিক্রি হচ্ছে পপুলার ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির ইনজেকশন ‘ইফিডিন’। পাইকারি মূল্যে ১২ টাকায় দোকানিদের কেনা এই জীবন রক্ষাকারী ইনজেকশনটির বিক্রয় মূল্য ২৫ টাকা নির্ধারিত থাকলেও জেলা শহরের বেশ কয়েকটি দোকানে বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায়।

একাধিক ভুক্তভোগীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ম্যাজিস্ট্রেট খবিরুল ইসলাম জেলা শহরের কলেজ রোডে অবস্থিত লুবনা ফার্মেসিতে ‘ইফিডিন’ কেনার জন্য ক্রেতা সেজে একজন ব্যক্তিকে পাঠানো হয়।

এ সময় তার কাছ থেকে ১২ টাকা মূল্যের এই ওষুধ ৩’শ টাকা বিক্রি করা হয়। ঐদিন রাতেই ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়।

লুবনা ফার্মেসির মালিক প্রদীপ মজুমদার অধিক দামে ওষুধ বিক্রয়ের অপরাধ স্বীকার করলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট খবিরুল ইসলাম ও রিপামনি দেবী উক্ত প্রতিষ্ঠানকে দশ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

একই দিন রাতে মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ রাখার দায়ে শহরের হাসপালত রোডস্থ লক্ষ্মীপুর সার্জিকাল মার্টকে পাঁচ হাজার ও সদর হাসপাতালের সামনে অবস্থিত সুজন মেডিকেল হল ও মায়ের দোয়া ফার্মেসিকে তিন হাজার টাকা করে ছয় হাজার টাকাসহ মোট একুশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। 

লক্ষ্মীপুরের ড্রাগ সুপার ফজলুল হক বলেন, “সোমবার তাদের এক কর্মচারী ক্রেতা সেজে ইনজেকশনটি কিনতে যান। এ সময় শহরের কলেজ রোডে অবস্থিত লুবনা ফার্মেসিতে ‘ইফিডিন’ ক্রয়ের জন্য গেলে দাম চাওয়া হয় ৫০০ টাকা। অনেক দামাদামি করে অবশেষে ৩০০ টাকায় ওষুধটি ক্রয় করে ওই প্রতিষ্ঠান থেকে। এতে ভোক্তা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে নির্ধারিত দামের অতিরিক্ত দাম রাখায় লুবনা ফার্মেসিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খবিরুল ইসলাম বলেন, “শহরের বিভিন্ন ওষুধের দোকানে অতিরিক্ত দামে বিক্রি হচ্ছে ইনজেকশন- এমন অভিযোগের ভিত্তিতে আজ এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে চারটি প্রতিষ্ঠানের ২১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।”