বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘ফণি’র সম্ভাব্য আঘাতকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম বন্দরের যাবতীয় অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। বন্দর জেটি ও কর্ণফুলি নদীতে অবস্থানরত জাহাজগুলোকে বহির্নোঙ্গরে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে বিমান উঠানামা এখনো স্বাভাবিক রয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক দেশ রূপান্তরকে জানান, আবহাওয়া অফিস থেকে ছয় নম্বর বিপদ সংকেত দেখানো হলেই বিধান অনুযায়ী বন্দরের অপারেশনাল কর্মকাণ্ড বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে আগে খালাস হওয়া পণ্যগুলো ডেলিভারি দেওয়া হচ্ছে। জেটিতে থাকা জাহাজগুলোকে বহির্নোঙ্গরে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় পরিস্থিতিকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে বন্দরে দু’টি নিয়ন্ত্রণ কক্ষে খোলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে প্রচারিত বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়।
একই সঙ্গে উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ৬ (ছয় ) নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে বলে উল্লেখ করা হয়।
চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) এনামুল করিম জানান, আবহাওয়া অদিধপ্তর ছয় নম্বর বিপদ সংকেতের বিজ্ঞপ্তির প্রচারের পরপরই আমরা নিয়মানুযায়ী জেটি ও বহির্নোঙ্গরে জাহাজ থেকে পণ্য উঠানামা বন্ধ করে দিয়েছি। পাশাপাশি সব ধরনের ভারী যন্ত্রপাতি ও নিজস্ব জাহাজগুলোকে নিরাপদে রাখার কাজ চলছে। বন্দর জেটিতে থাকা পণ্যবাহী জাহাজগুলোকে বহির্নোঙ্গরে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় ঘূর্ণিঝড়কে সামনে রেখে জরুরি সভা করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল জুলফিকার আজিজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বন্দরের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা, বিভাগীয় প্রধান, টার্মিনাল অপারেটরের প্রতিনিধি এবং স্টেক হোল্ডারের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় ঘূর্ণিঝড় পরিস্থিতি মোকাবিলায় বন্দর ও সংশ্লিষ্টদের করণীয় সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। সভায় বন্দর চ্যানেল থেকে সব ধরনের নৌযান শাহ আমানত সেতুর পূর্বপাশে বা নিরাপদ পোতাশ্রয়ে পাঠানো, শুক্রবার-শনিবারও বন্দরের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিত থাকা, বন্দর হাসপাতালে সব ধরনের প্রস্তুতি রাখা, জেটির ভেতরে অ্যাম্বুলেন্স রাখা এবং অতিরিক্ত একশ শ্রমিক প্রস্তুত রাখার সিদ্ধান্ত হয়।
এদিকে সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। বুধবার সন্ধ্যায় জরুরি সভা করেছে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি।
প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, “সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় পরিস্থিতি মনিটরিংয়ের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। সম্ভাব্য মোকাবিলার জন্য সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের আশ্রয় কেন্দ্র, শুকনো খাবার ও স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
উপকূলীয় এলাকার লোকজনকে সতর্ক করতে মাইকিং করা হচ্ছে। যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য পর্যাপ্ত খাবার মজুদ রাখা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যে বলা হয়, ঘূর্ণিঝড় ‘ফণি’ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্র বন্দর থেকে ১ হাজার ২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ৯শ ১৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ৯২৫ কি. মি. দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল।
আগামীকাল শুক্রবার সকাল নাগাদ খুলনা ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ‘ফণি’-এর অগ্রবর্তী অংশে প্রভাব শুরু হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।