বন্দরে তৃতীয় দিনের মতো পণ্য উঠানামা বন্ধ

ঘূর্ণিঝড় ‘ফণি’র প্রভাবে বন্দর নগরী চট্টগ্রামের আকাশ পুরোপুরি মেঘাচ্ছন্ন রয়েছে। বাড়ছে বাতাসের গতি। উত্তাল রয়েছে সাগর। পাশাপাশি যে কোনো দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে প্রশাসন।

এদিকে ঘূর্ণিঝড়ের বিপদ সংকেতের কারণে গত দুই দিনের মতো শনিবারও বন্ধ রয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম। তবে শাহ আমানত বিমান বন্দরের ফ্লাইট ওঠানামা স্বাভাবিক রয়েছে।

সকাল থেকেই মেঘাচ্ছন্ন রয়েছে চট্টগ্রামের আকাশ। তবে সকাল সাড়ে ১১টা পর্যন্ত কোথাও কোনো বৃষ্টি হয়নি। বাতাসের গতিবেগ ক্রমশ বাড়ছে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আবদুল হান্নান দেশ রূপান্তরকে জানান, চট্টগ্রামে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইছে। আর তা দমকা হাওয়ার আকারে ৫৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। আকাশ দিনভর মেঘাচ্ছন্ন থাকলেও চট্টগ্রামে ভারী বর্ষণের কোনো পূর্বাভাস নেই বলেও জানান তিনি।

ঘূর্ণিঝড়ের কারণে যে কোনো দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুতি নিয়েছে চট্টগ্রামের প্রশাসন।

ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, গত দুই দিন ধরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে উপকূলীয় এলাকার লোকজনকে মাইকিং করে সতর্ক করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে আনোয়ারা, বাঁশখালী, সন্দ্বীপ,সীতাকুন্ডসহ বিভিন্ন এলাকায় বেশ কিছু লোকজন সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় নেয়। আশ্রয়কেন্দ্রের লোকজনের জন্য প্রয়োজনীয় শুকনো খাবারসহ ওষুধ ও মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার আশঙ্কায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। বন্দরের জেটিগুলো ফাঁকা অবস্থায় রয়েছে। পণ্যবাহী জাহাজগুলো বহির্নোঙ্গরে অবস্থান নিয়েছে।

বন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) এনামুল করিম জানান, শনিবারও বহির্নোঙ্গর জেটিতে পণ্য ওঠানামা বন্ধ রয়েছে। বহির্নোঙ্গরে বর্তমানে মোট ৮৪টি জাহাজ পণ্য নিয়ে অপেক্ষা করছে বলেও জানান তিনি।