১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী সমাজসেবক ও জাতীয়তাবাদী শিল্প উদ্যোক্তা রণদা প্রসাদ সাহাকে ছেলেসহ ধরে নিয়ে যায় এবং ধারণা করা হয় সেদিনই তাদের হত্যা করা হয়। রণদা প্রসাদ সাহার জন্ম ১৮৯৬ সালের ১৫ নভেম্বর ঢাকায়। তিনি আরপি সাহা নামেই বেশি পরিচিত। তার বাবার নাম দেবেন্দ্রনাথ পোদ্দার ও মা কুমুদিনী দেবী। কিশোর বয়সে তিনি বাড়ি থেকে পালিয়ে কলকাতা যান এবং বিভিন্ন ধরনের কায়িক শ্রম করে জীবিকা নির্বাহ করেন। একসময় তিনি স্বদেশি আন্দোলনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন এবং কিছুদিন হাজতবাসও করেন। ১৯১৫ সালে আলিপুর সেনানিবাসে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে বাঙালি পল্টনে যোগ দেন। প্রথমে ল্যান্স নায়েক হিসেবে তিনি পদোন্নতি পান এবং পরে জমাদার পদে উন্নীত হন। ১৯২০ সালের ১৫ অক্টোবর বাঙালি পল্টন ভেঙে দিলে তিনি কলকাতা ফেরত আসেন। যুদ্ধফেরত সৈনিকদের জন্য সরকার থেকে যোগ্যতানুযায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়। তিনি রেল বিভাগে টিকিট কালেক্টর পদে চাকরি পান। ১৯৩২ সালে চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করে কলকাতায় কয়লা ও লবণের ব্যবসা শুরু করেন। এতে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি বড় আকারের পুঁজি সংগ্রহ করেন। তিনি চাকরি শুরু করেছিলেন যুদ্ধক্ষেত্রে অসুস্থ ও আহতদের সেবা দেওয়ার মাধ্যমে। একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে রূপান্তরিত হওয়ার পরও তিনি সামাজিক সেবা প্রদান অব্যাহত রাখেন। ১৯৩৮ সালে মির্জাপুরে মায়ের নামে তিনি কুমুদিনী হাসপাতাল নির্মাণ করেন। ১৯৪৩ সালে তিনি টাঙ্গাইলে মেয়েদের জন্য কুমুদিনী কলেজ স্থাপন করেন। ১৯৪৬ সালে তিনি বাবার নামে মানিকগঞ্জে দেবেন্দ্র কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। এ ছাড়া তিনি দেশের বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আর্থিক সহায়তা দেন।