তারেককে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এবার বেশি তৎপর শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার। গত দুই দফায় ক্ষমতায় থাকলেও তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে অনেকটা ‘বেখেয়ালিপনা’ ছিল ক্ষমতাসীনদের ভেতরে। তৃতীয় দফায় ক্ষমতায় আসার পরে তারেক ইস্যুটি গুরুত্ব সহকারে দেখছেন আওয়ামী লীগের উচ্চ পর্যায়ের নেতারা। দলটির কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা দেশ রূপান্তরকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার একমাত্র ছেলে তারেক রহমান চিকিৎসার জন্য প্যারোল নিয়ে ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সপরিবারে যুক্তরাজ্য যান। এরপর ২০১৪ সালে সে দেশে রাজনৈতিক আশ্রয় পান। সেখানে বসেই বিএনপির নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন তিনি। 

আওয়ামী লীগের ওই কেন্দ্রীয় নেতারা বলেন, শেখ হাসিনা টানা তৃতীয় দফা ক্ষমতায় আসার পরে বেশ কয়েকটি বক্তৃতায় তারেক রহমানকে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে নিজের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। গত বছর ২৮ অক্টোবর সংসদের একটি অধিবেশনে সংসদ নেতার ভাষণে শেখ হাসিনা স্পষ্ট করে বলেন, আগামী নির্বাচনে আবার যদি ক্ষমতায় আসতে পারি অবশ্যই আমরা তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে পারব। এই বিশ্বাস আমার আছে। তিনি এও বলেন, খুনের সাজা কার্যকর করার জন্য দেশবাসীর দোয়াও চাই, ভোটও চাই। শেখ হাসিনার এই বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তারা আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তার এবারের যুক্তরাজ্য সফরে দেশটির নেতৃস্থানীয়দের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক-অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে তারেক ইস্যুটি নিয়ে আলোচনা করবেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ও সরকারের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেনÑ এমন দুজন দেশ রূপান্তরকে বলেন, যুক্তরাজ্য সফরে সে দেশের সরকারের যেসব পর্যায়ে শেখ হাসিনা বৈঠক করবেন সব বৈঠকেই তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার ইস্যুটি আলোচনায় আসবে। সে দেশের সরকারের ইতিবাচক মনোভাব আদায় করতে পারলে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো তারেককে ফেরাতে দ্রুততার সঙ্গে কাজ শুরু করবে। এছাড়া যুক্তরাজ্য প্রবাসী গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গেও শেখ হাসিনা তারেক ইস্যু নিয়ে আলোচনা করবেন। এক্ষত্রে প্রবাসীদের দায়িত্ব-কর্তব্য কী হতে পারে সে ব্যাপারেও তাদের দিকনির্দেশনা দেবেন শেখ হাসিনা।  

ওই দুই নেতা আরও বলেন, কোনো দেশের রাজনৈতিক আশ্রয় নেওয়া কোনো ব্যক্তিকে দেশে ফিরিয়ে আনা জটিল প্রক্রিয়া। তবে সেই জটিলতা এবার অনেকখানি দূর হয়ে যেতে পারে। আওয়ামী লীগের সম্পাদকম-লীর এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যুক্তরাজ্যের রানীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে তাকে বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে। মূলত সেই আমন্ত্রণ জানাতে রানীর সঙ্গে সাক্ষাতের সম্ভাবনা রয়েছে তার।

তবে সভাপতিম-লীর এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনা হলে রাজনৈতিক লাভ কী হতে পারেÑ তাও পর্যালোচনায় রয়েছে ক্ষমতাসীন মহলে। কেউ কেউ মনে করছেন, লাভের চেয়ে ক্ষতি বেশি হতে পারে। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, তারেককে দেশে ফিরিয়ে আনা হলে এবং বিচারের মুখোমুখি করা হলে বিএনপির রাজনীতি আরও দুর্বল হয়ে পড়বে। জিয়া পরিবারের রাজনৈতিক ইমেজ আরও নষ্ট হবে। তাই ফিরিয়ে এনে শাস্তি কার্যকর করা জরুরি। তাছাড়া প্রধানমন্ত্রী বারবার তারেককে ফিরিয়ে আনা হবে বলে বলছেন। বিষয়টি জনগণের কাছে অঙ্গীকারে পরিণত হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক দৃঢ়তা জাতির সামনে আরও সুস্পষ্ট হয়ে উঠবে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, আদালত থেকে দ-প্রাপ্ত বিএনপির এই পলাতক নেতাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার বদ্ধপরিকর। তিনি বলেন, তাকে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে বলে একাধিকবার জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আব্দুর রহমান বলেন, শেখ হাসিনা জাতির কাছে যা ওয়াদা করেন তা তিনি পালন করেন। তারেক রহমানকে অবশ্যই দেশে আসতে হবে, বিচারের রায় অনুযায়ী সাজাভোগ করতে হবে।