অধিকাংশ পর্যটকের জন্য ভারতে ঘুরতে যাওয়া মানেই মন্দির, দুর্গ, উৎসব আর বৈচিত্র্যপূর্ণ খাবারের স্বাদ নেওয়া। কিন্তু ভারতের লোকসভা নির্বাচনের মধ্যে এবার নতুন এক দর্শনীয় ব্যাপার যুক্ত হয়েছে পর্যটকদের জন্য। এই দর্শনীয় ব্যাপারকে বলা হচ্ছে ‘ইলেকশন ট্যুরিজম’। দেশটির অক্ষর ট্রাভেলস নামের একটি প্রতিষ্ঠান এ ধারণার জন্ম দিয়েছে।
সিএনএনকে অক্ষর ট্রাভেলসের প্রতিষ্ঠাতা মনীষ শর্মা বলেন, ‘এখানে যখন নির্বাচন হয়, তখন চারদিকে উৎসব শুরু হয়ে যায়। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক দলগুলো বিভিন্ন অনুষ্ঠান, র্যালি ও প্যারেডের আয়োজন করে তাদের উদ্দেশ্য পূরণের জন্য। এমন উত্তেজনা আর সক্রিয়তা আপনি শুধু আমাদের মধ্যেই দেখতে পাবেন। এটা আমাদের রক্তে রয়েছে।’ ২২ বছর আগে শুরু করা অক্ষর ট্রাভেলস মূলত ভিসা, টিকিট এবং ভ্রমণের বন্দোবস্ত করে দেয়। কিন্তু ২০১২ সাল থেকে তারা নির্বাচনকেন্দ্রিক পর্যটক ব্যবসা শুরু করে। ২০০৫ সালে মেক্সিকোর ‘পোল ট্যুরিজম’ থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন শর্মা। পরীক্ষামূলক হিসেবে গুজরাট রাজ্যসভা নির্বাচনকে বেছে নেন তিনি। ওই বছর গুজরাটের নির্বাচন দেখতে ৫ হাজার ২০০ জন পর্যটক যোগাযোগ করে অক্ষর ট্রাভেলসের সঙ্গে। শর্মা জানান, ‘অনেক মানুষ রয়েছে যারা ভারতের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চায়। ভারতের এই অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত হতে পারা তাদের কাছে সুযোগের ব্যাপার।’ চলতি লোকসভা নির্বাচনে অক্ষর ট্রাভেলস ১০ হাজার বিদেশিকে ছয় থেকে আট দিনের নির্বাচন ট্যুর করে। প্রত্যেক দলের জন্যই প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দক্ষ কর্মী দেওয়া হয়। এই বিদেশিদের মধ্যে অধিকাংশই গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী, বিশেষ স্বার্থসংশ্লিষ্ট গ্রুপ, ইতিহাসপ্রেমী, সংস্কৃতিকর্মী এবং সাংবাদিকরাই বেশি। আর তাদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও জাপান থেকে আসা বিদেশিই সংখ্যাগরিষ্ঠ।
অক্ষরের বর্তমান ট্যুর চলছে ভারতের উত্তরাঞ্চলের আসনগুলোতে। পর্যটকরা হরিদ্বারের রাজনৈতিক র্যালিতে অংশগ্রহণ করতে পারেন। এ ছাড়া জিপগাড়িতে করে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীদের সঙ্গেও দেখা করতে পারেন তারা। তবে বিদেশি পর্যটকদের কাছে গান্ধীর গুজরাটের নির্বাচন দেখা অনেকটাই চ্যালেঞ্জের ব্যাপার।