জন ক্যাম্পবেল ছিলেন না চোট সমস্যায়। কিন্তু আগের ম্যাচে তার সঙ্গে পার্টনারশিপের বিশ্ব রেকর্ড গড়া শেই হোপ ছিলেন। এবং আবার সেঞ্চুরি করলেন। ৪০.৪ ওভারে ২ উইকেটে ২০৫ ওয়েস্ট ইন্ডিজের। মনে হচ্ছিল, ৫০ ওভার শেষে স্কোরটা বেশ বড়ই হবে। কিন্তু অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার নেতৃত্বে শেষ ১০ ওভারে ঘুরে দাঁড়াল বাংলাদেশের বোলিং। ডাবলিনের ক্লনটার্ফ ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে লক্ষ্যটা তাই নাগালের ভেতরেই ছিল।
উইন্ডিজকে ৯ উইকেটে ২৬১ রানে থামানো যায়। জবাব দিনে নেমে সৌম্য সরকার আর তামিম ইকবালের অসাধারণ উদ্বোধনী জুটির কল্যাণে ৩২ বল হাতে রেখে ৪ উইকেটের জয় পায় বাংলাদেশ। তামিম ৮০ রান করেন। আর সৌম্য ৭৩ রানে আউট হন। ৬১ রানে অপরাজিত ছিলেন সাকিব আল হাসান। মুশফিকুর রহিম ৩২ রানে অপরাজিত ছিলেন।
প্রস্তুতি ম্যাচে আয়ারল্যান্ড ‘এ’ দলের বিপক্ষে হেরে বিশ্বকাপের প্রস্তুতির শুরুতে ধাক্কা খেয়েছিল বাংলাদেশ। ত্রিদেশীয় সিরিজে নিজদের প্রথম ম্যাচে টসটাও হারে। আর বাংলাদেশি বোলারদের জন্য দুর্বোধ্য হয়ে ওঠা শেই হোপ আরো একবার জ্বলে ওঠেন। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ১৭৯ রানের ইনিংস খেলা হোপ এবার করেছেন ১০৯।
সেঞ্চুরির আগে গতি হারানো হোপ এরপর যখন রানের গতি বাড়াবেন, তখনই মাশরাফীর আঘাত। একে একে তিন। উইন্ডিজের ইনিংসের ৪০.৪ ওভারের পরে অংশটুকু হয়ে দাঁড়ায় বাংলাদেশের।
উইন্ডিজ আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিলেও শট খেলতে সমস্যা হয়েছে তাদের ব্যাটসম্যানদের। হোপ অবশ্য অবিচল ছিলেন। সুনীল অ্যামব্রিসকে (৩৮) নিয়ে গড়েন ৮৯ রানের উদ্বোধনী জুটি। আক্রমণে এসেই মেহেদী হাসান মিরাজ অ্যামব্রিসকে আউট করেছিলেন। পরের ওভারে সাকিব আল হাসানের বলে ড্যারেন ব্রাভো (১) উইকেটের পেছনে মুশফিকুর রহিমের হাতে ধরা পড়েন। যদিও ব্রাভোর মনে হয়নি ব্যাটে বলে হয়েছিল।
হোপের গল্প চলতে থাকে। ২০ ওভারের মধ্যে প্রথম দুই উইকেট নেওয়া বাংলাদেশ পরের ২২ ওভারে আর উইকেট পায় না। অবশ্য ৩০ থেকে ৪০ ওভারে মাত্র ৫১ আসে উইন্ডিজের। সেঞ্চুরির কাছে গিয়ে গতি হারান হোপ। শেষ পর্যন্ত ১২৬ বলে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি তুলে নেন। তার আগে ক্যারিবিয়ান ইতিহাসে দ্রুততম ২০০০ রানের নুতন রেকর্ড গড়েন। স্যার ভিভ রিচার্ডসকে পেছনে ফেলেন। হোপের লাগল ৪৭ ইনিংস, ভিভের লেগেছিল ৪৮-এ। হোপ এই সিরিজের দুই ম্যাচেই সেঞ্চুরি করলেন। তার চেয়ে বড় ব্যাপার বাংলাদেশ তার উইকেটটা পেয়েছে তিনি ৩৬৩ রান করার পর। গেল বছর বাংলাদেশে টানা দুই সেঞ্চুরিতে অপরাজিত (১৪৬,১০৮) ছিলেন। এবার রোস্টন চেজের (৫১) সঙ্গে ১১৫ রানের জুটি গড়লেন তৃতীয় উইকেটে। তারপর মাশরাফীর টানা তিন আঘাত।
দুই ওভারের তিন বলের মধ্যে উইকেটে সেট হয়ে যাওয়া রোস্টন আর হোপকে তুলে নেন মাশরাফী। ১৩২ বলে ১১ চার ও ১ ছক্কায় ১০৯ করে ফিরেছেন হোপ মাশরাফীকে মারতে গিয়ে টাইমিং করতে না পেরে। আগের ওভারের পঞ্চম বলে মাশরাফীর প্রথম শিকার রোস্টন। ৪৩তম ওভারে হোপ বিদায় নেওয়ার ১ বল পর অধিনায়ক জেসন হোল্ডার (৪) আউট। মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ফেরান অভিষিক্ত শেন ডওরিচকে (৬) ।
২ উইকেটে ২০৫ থেকে ২০১৯ রানে ৬ উইন্ডিজ। মোস্তাফিজুর রহমান খরুচে ছিলেন। উইকেট শিকারের উৎসবে তিনিও যোগ দেন। ১০ ওভারে ৮৪ রানে ২টি উইকেট তার। ২ উইকেট সাইফউদ্দিনেরও। শেষ ১০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ৬৪ তুলেছে উইন্ডিজ। বাংলাদেশের সফলতম বোলার মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। ১০ ওভারে ৪৯ রানে ৩ উইকেট। মূলত মাশরাফীর কারণে শেষটায় লড়াইয়ে ফিরে প্রতিপক্ষের স্কোরটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছিল বাংলাদেশ।