বিমানে দুর্নীতি

দুদকের ৪ দল জিজ্ঞাসাবাদ করবে ২০০ জনকে

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিভিন্ন শাখায় দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। চারটি কমিটি করে এ অনুসন্ধানকাজ পরিচালনা করছে সংস্থাটি। বিমানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে কমপক্ষে ২০০ জনের একটি তালিকা করেছে দুদক। যাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হতে পারে বলে অনুসন্ধানকারী দলের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন। এরই অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে সদ্য বিদায়ী

ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ (এমডি) ১০ জনের বিদেশযাত্রায় এরমধ্যে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

বিমান সম্পর্কিত দুদকের প্রাতিষ্ঠানিক দলগুলোর অনুসন্ধান তদারকি করছেন সংস্থাটির পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন। তিনি সব অনুসন্ধানেরই তদারককারী কর্মকর্তা। সৈয়দ ইকবাল দেশ রূপান্তরকে গতকাল মঙ্গলবার বলেন, ‘আমরা কাজ শুরু করেছি। দ্রুততম সময়ের মধ্যে অনুসন্ধান সম্পন্ন করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশ করা হবে।’

বিমান সম্পর্কিত দুদকের প্রাতিষ্ঠানিক দল গত ৩ মার্চ বিমানের আট খাতের দুর্নীতি চিহ্নিত করে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলীর কাছে একটি প্রতিবেদন দিয়েছে। খাতগুলো হচ্ছেÑ এয়ারক্রাফট কেনা ও ইজারা নেওয়া, রক্ষণাবেক্ষণ-ওভারহোলিং, গ্রাউন্ড সার্ভিস, কার্গো আমদানি-রপ্তানি, ট্রানজিট যাত্রী ও লে-ওভার যাত্রী, অতিরিক্ত ব্যাগেজের চার্জ আত্মসাৎ, টিকিট বিক্রি ও ক্যাটারিং।

ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে ঘুষ নিয়ে ক্যাডেট পাইলট নিয়োগসহ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান করছেন দুদকের সহকারী পরিচালক সাইফুল ইসলাম। তিনি গত ২ মে ১০ জনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা চেয়ে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক বরাবর একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। ওই ১০ জনের মধ্যে বিমানের সদ্য পদত্যাগী এমডি আবদুল মুনীম মোসাদ্দিক আহম্মেদও রয়েছেন। তাদের শিগগির দুদকে তলব করা হবে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির এক কর্মকর্তা।

সহকারী পরিচালক সাইফুল ইসলাম পাইলট নিয়োগ সম্পর্কিত কিছু নথি সংগ্রহ করেছেন। আরও কিছু নথিপত্র চেয়েছেন। বিমানের কার্গো ও গ্রাউন্ড সার্ভিসের ৩৭ জনের অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধানের বিষয়েও কাজ করছেন তিনি। তারা সবাই বিমানের সিবিএর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা।

অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে এরমধ্যে বিমানের পরিচালক (বিপণন) আলী আহসান বাবু, শফিকুর রহমান, মোমিনুল ইসলাম এবং মহাব্যবস্থাপক (জিএসই) তোফাজ্জল হোসেন আকন্দের বক্তব্য নিয়েছেন দুদকের সহকারী পরিচালক সালাহ উদ্দিন। কমার্শিয়াল অফিসার মাহফুজুল করিম সিদ্দিকী ও তার স্ত্রীর সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিস দেওয়া হয়েছে। মাহফুজুল সম্পদের হিসাব জমা দিয়েছেন দুদকে। অন্যদেরও সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিস দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তারা। তাদের সবার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে।

বিমানের সদ্য পদত্যাগী এমডি আবদুল মুনীম মোসাদ্দিক আহম্মেদসহ অন্য কর্মকর্তাদের দুর্নীতি ও প্রকল্পের দুর্নীতি খোঁজার দায়িত্ব পেয়েছেন দুদকের সহকারী পরিচালক সাইফুল ইসলাম। আরেক সহকারী পরিচালক সালাহ উদ্দিনকেও এই দলের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

বিমানের কার্গো হ্যান্ডেলিং চার্জের ৭২০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে উপ-পরিচালক নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি দল। গত ১০ বছরে এই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে অভ্যন্তরীণ তদন্তেও কার্গো শাখায় ৪১২ কোটি টাকা লোপাটের তথ্য বেরিয়ে আসে। চিঠি দিয়ে ওই তদন্ত প্রতিবেদন এবং এ সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করেছে দুদক। কার্গো হ্যান্ডেলিং চার্জের ৭২০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তে এরমধ্যে ১৪ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তা। এ ছাড়া আরও কমপক্ষে ৬০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন এই অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা।