পরমাণু চুক্তি থেকে আংশিক সরে আসায় ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে দিয়ে গত কয়েক দশকের প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্র দুইটির মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হলো।
আলজাজিরা জানায়, বুধবার এক নির্বাহী আদেশে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, তামা ও লোহার ওপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে অর্থনীতিকে চাঙা রাখতে শক্তিশালী ভূমিকা রাখে ইরানের এই সব খাত।
তেহরান তার সিদ্ধান্ত থেকে সরে না আসলে আরও কঠোর পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। ইরানের ঘোষণা দেওয়ার পরপরই এমন প্রতিক্রিয়া দেখায় ওয়াশিংটন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “ইরানের রপ্তানি শিল্পে যে খাত ১০ শতাংশ ভূমিকা রাখে, সেটির ওপরে আজকের এই নিষেধাজ্ঞা।”
ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রাখা অন্য দেশগুলোর প্রতিও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, “বাকি দেশগুলোও যদি ইরান থেকে ইস্পাত, লোহাসহ অন্যান্য ধাতু আমদানি করে, তা কোনোভাবে সহ্য করা হবে না।”
বুধবার ২০১৫ সালের আন্তর্জাতিক পরমাণু চুক্তি থেকে আংশিক সরে আসার ঘোষণা দেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি।
একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা থেকে ইরানকে রক্ষায় চুক্তিভুক্ত পক্ষগুলো কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে উচ্চমাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
ইরানের প্রেসিডেন্টের হুমকি, “যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা থেকে তার দেশের তেল ও ব্যাংকিং শিল্পকে রক্ষার পথ খুঁজতে অন্য পাঁচ শক্তি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ না হলে ৬০ দিনের মধ্যে অনুমোদিত নিম্ন মাত্রার চেয়ে বেশি পরিমাণে পরমাণু সমৃদ্ধকরণ শুরু করবে তেহরান।”
তিনি বলেন, “পাঁচটি দেশ আলোচনার টেবিলে আসার পর আমরা চুক্তিতে পৌঁছালে এবং তারা তেল ও ব্যাংকিং খাতে আমাদের স্বার্থ সংরক্ষণ করতে পারলে আমরা নতুন করে শুরু করব।”
ওই সময় জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ) নামে পরিচিত চুক্তিটিতে থাকার ইচ্ছার কথা জানিয়ে ইসলামি প্রজাতন্ত্রটির প্রেসিডেন্ট বলেন, “ইরানের জনগণ ও বিশ্বের জানা উচিত যে, আজই জেসিপিওএর শেষ নয়। এই কর্মকাণ্ডগুলো জেসিপিওএর সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ।”
ইরানের সঙ্গে ২০১৫ সালের চুক্তিটিতে সই করে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি। চুক্তি অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের শর্তে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সম্মত হয় ইরান।
কিন্তু গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ থেকে সরে এসে ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি করে, যার বিরোধিতা করে ওয়াশিংটনের ইউরোপীয় মিত্ররা। তারা তেহরানকে চুক্তিতে ধরে রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার প্রভাব খর্বের পথ খোঁজার চেষ্টা করেছে। কিন্তু তাদের সে চেষ্টা মোটা দাগে ব্যর্থ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের তোপে পড়ার ভয়ে ইউরোপের বড় সব প্রতিষ্ঠান ইরানের সঙ্গে ব্যবসার পরিকল্পনা বাতিল করেছে।