গ্রামের সবাই জানে সিফাত ঢালী শুধুই একজন দিনমজুর কিশোর। কেউ কখনো জিজ্ঞাসাও করেনি সে পড়ালেখা করে কি না। সেই সিফাতই সবাইকে অবাক করে দিয়েছে এবারের এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের দিন।
পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় বাবার সঙ্গে দিনমজুরের কাজ করত সিফাত ঢালী। এ কারণে ঠিকমতো স্কুলে যেতেও পারত না সে। এরই মধ্যে প্রাইমারি স্কুল সার্টিফিকেট (পিএসসি) ও জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়েছিল। সেই সিফাত এসএসসিতেও তার প্রতিভার প্রমাণ রেখেছে।
মজিদ জরিনা ফাউন্ডেশন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে গোল্ডেন জিপিএ ৫ পেয়েছে সিফাত। সে শরীয়তপুরের সদর উপজেলার পালং ইউনিয়নের আটিপাড়া গ্রামের দিনমজুর লিটন ঢালীর ছেলে।
সিফাতের পরিবার ও এলাকাবাসী জানায়, আটিপাড়া গ্রামের লিটন ঢালী অন্যের জমিতে দিনমজুরের কাজ করেন। অভাবের সংসারে দিনমজুরের কাজ করে তিনি সংসার চালিয়ে তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে লেখাপড়া করান। একা কাজ করে সংসার চালিয়ে সন্তানদের লেখাপড়া যখন বন্ধের পথে তখন বাবার সঙ্গে অভাবের সংসারে হাল ধরে ছেলে সিফাত। সিফাত ঢালী বলে, বাবা কৃষিকাজ করেন। বাবার সঙ্গে আমিও কৃষিকাজে সাহায্য করি। ভবিষ্যতে প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন। সিফাতের বাবা লিটন ঢালী বলেন, সিফাত এসএসসিতে প্রতিটি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। এর বেশি কিছু আমার জানা নেই। সিফাতের মা মণি বেগম বলেন, ‘সিফাত এত ভালো করবে বুঝতে পারিনি। এখন চিন্তা করছি ভবিষ্যৎ লেখাপড়া নিয়ে। কীভাবে সামনের দিনগুলো পাড়ি দেব।’
মজিদ জরিনা ফাউন্ডেশন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ফরিদ আল হোসাইন বলেন, সিফাতের পরিবার খুব গরিব। তাই বিনা বেতনে তাকে লেখাপড়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সিফাতের স্বপ্ন সে একদিন প্রকৌশলী হবে। কিন্তু প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে সিফাত কলেজে ভর্তি হতে পারবে কি না সেটা নিয়ে সংশয়ে তার পরিবার।