শরীর খারাপ হলে

একটা রোজা পালনে এখন প্রায় ১৫ ঘণ্টা অভুক্ত থাকতে হয়। লম্বা সময় হওয়াতে একটু অসাবধান হলেই দেহে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। রোজায় সাধারণত অবসাদগ্রস্ততা ও দুর্বলতা, হজমে অসুবিধার জন্য পেটে গ্যাস হওয়া, মাথাব্যথা, কোষ্ঠকাঠিন্য, হাইপোগ্লাইসেমিয়া, মাসল ক্রাম্প, এসিডিটি বা বুকজ¦ালা হতে পারে। এসব সমস্যা সমাধানে এবং রোজায় সুস্থ থাকতে কিছু নিয়ম-কানুন মেনে চলুন।

কোষ্ঠকাঠিন্য : কম পানি ও কম আঁশযুক্ত খাবার, প্রক্রিয়াজাতকৃত খাবার যদি রোজায় বেশি খাওয়া হয় তাহলে কোষ্ঠকাঠিন্য মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। যদি কারোর কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়, তাহলে ইফতারি থেকে সাহরি পর্যন্ত কমপক্ষে তিন লিটার পানি পান করুন। যা ইফতার থেকে রাতে ঘুমের আগেই খেতে হবে প্রায় আড়াই লিটার পানি। পাশাপাশি ইফতার-পরবর্তী খাবার হিসেবে লাল আটার রুটি, লাল চালের ভাত, সবজি, ঢেঁড়স বেশি খেতে হবে। ইফতারির সময় এবং সাহরিতে পানির সঙ্গে ইসবগুলের ভুসি এক টেবিল চামচ করে মিশিয়ে খেতে হবে।

হাইপোগ্লাইসেমিয়া : রক্তে গ্লুকোজ কম থাকলেই মস্তিষ্কেও গ্লুকোজ কম পৌঁছবে। সারাদিন অভুক্ত থাকলে কখনো কখনো রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে যেতে পারে। গ্লুকোজ কমে যাওয়ার এ অবস্থাকে হাইপোগ্লাইসেমিয়া বলে। লক্ষণ হিসেবে দেখা যায়, দুর্বলতা, ঘুম ঘুম ভাব, অমনোযোগিতা, কাজে কম একাগ্রতা, মাথাব্যথা, চোখ অন্ধকার হয়ে আসা ইত্যাদি। যাদের মধ্যে এ সমস্যা দেখা দেয় তাদের সাহরিতে খাবার শেষে একটি ফল বা দুটি খেজুর এবং এক কাপ দুধ খাওয়া উচিত।

মাসল ক্রাম্প : প্রতিনিয়ত আমাদের দেহের মাংসপেশি নড়াচড়া করে। কিন্তু এই চলমান অবস্থা হঠাৎ যদি থেমে যায় বা আটকে থাকে তখন যে অবস্থা সৃষ্টি হয় তাকে মাসল ক্রাম্প বলে। খাবারে অপর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম কম গ্রহণ করলে মাসল ক্রাম্প হতে পারে। রোজায় সাধারণত মাত্র তিনটা সময়ই খাওয়ার সময়। এ সময়ে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং পটাশিয়াম কম গ্রহণের ফলে মাসল ক্রাম্প হতে পারে। এ ক্ষেত্রে সবজি ফল, দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার, মুরগির মাংস, খেজুর ও পানি বেশি করে গ্রহণ করুন।

এসিডিটি বা বুকজ্বালা : এসিডিটির কারণে অনেক সময় বুকের ঠিক মাঝখান বরাবর জ¦ালা করে, বুকে-পিঠে ব্যথা হয়। রোজার সময় এ অবস্থার অন্যতম কারণ অতিরিক্ত ভাজা, মসলাযুক্ত খাবার, কফি, কোমল পানীয় দায়ী। তাই যাদের পেপটিক আলসার রয়েছে তাদের ফল, সবজি, বিশেষ করে খাওয়ার পরে চাঁপাকলা, ফলের রস, ঠাণ্ডা দুধ, বেলের শরবত ইত্যাদি খেলে উপকার পাবেন। যাদের এসিডিটি বা গ্যাসের সমস্যা আগে থেকেই আছে তাদের একবারে বেশি পানি না নিয়ে অল্প অল্প কিছুটা ঠাণ্ডা পানি পান করা ভালো।

 ইমেল : info@dietcounselingcentre.com