প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার অপেক্ষায় এটিএম শামসুজ্জামানের পরিবার

রাজধানীর আজগর আলী হাসপাতালের লাইফ সাপোর্টে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বরেণ্য অভিনয়শিল্পী এটিএম শামসুজ্জামান। তার শারীরিক অবস্থা শঙ্কামুক্ত নয় বলে জানিয়েছেন তার মেয়ে কোয়েল। দেশ রূপান্তরকে কোয়েল বলেন, ‘শনিবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন। তারপর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে উন্নত চিকিৎসার ব্যাপারে আমরা সিদ্ধান্ত নেব।’

এদিকে গতকাল শুক্রবার এটিএম শামসুজ্জামানকে দেখতে আজগর আলী হাসপাতালে যান জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া। তাদের সঙ্গে আরও ছিলেন সংগীতশিল্পী রফিকুল আলম।

এটিএম শামসুজ্জামানের মেয়ে কোয়েল বলেন, ‘উনারা এসেছিলেন। এখানকার চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। বাবার চিকিৎসার সব কাগজ-পত্র চেয়েছেন সামন্ত লাল আংকেল। প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরলেই বিষয়টি নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলবেন। এরপরই আমরা সিদ্ধান্ত নেব, দেশেই অন্য কোনো হাসপাতালে নাকি বিদেশে নিয়ে চিকিৎসা করানো হবে। সামন্ত লাল আংকেলের সঙ্গে আব্বার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব। সেই পরিচয়ের সূত্রেই তিনি আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন।’

হাসপাতালে এটিএম শামসুজ্জামানকে দেখে আসার পর শুক্রবার বিকেলে দেশ রূপান্তরকে ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগত সম্পর্কের জায়গা থেকেই দেখতে গিয়েছিলাম। যতটুকু দেখেছি, তাতে মনে হয়েছে শরীরের অবস্থা বেশি ভালো না। আর উন্নত চিকিৎসার ব্যাপারে পরিবার এবং কর্তব্যরত চিকিৎসক সিদ্ধান্ত নেবেন। আমার জায়গা থেকে যতটুকু সহযোগিতা করা দরকার আমি করব।’

গত ২৬ এপ্রিল শ্বাসকষ্ট, পেট ফাঁপা ও বমির সমস্যার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এটিএম শামসুজ্জামানকে। পরদিন অস্ত্রোপচার করা হয় তার। অবস্থার অবনতি হলে আইসিইউ থেকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। এরপর অবস্থার উন্নতি হলে লাইফ সাপোর্ট খুলে নেওয়া হয়। কিন্তু ফের অবস্থার অবনতি হলে গত সোমবার ফের লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয় ৭৭ বছর বয়সী এ অভিনেতাকে।

এটিএম শামসুজ্জামান নোয়াখালীর দৌলতপুরে নানাবাড়িতে ১৯৪১ সালের ১০ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬১ সালে পরিচালক উদয়ন চৌধুরীর ‘বিষকন্যা’ চলচ্চিত্রে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেন। প্রথম কাহিনি ও চিত্রনাট্য লিখেছেন ‘জলছবি’ চলচ্চিত্রের জন্য। পরিচালক ছিলেন নারায়ণ ঘোষ মিতা। এ ছবির মাধ্যমেই অভিনেতা ফারুক ও প্রবীর মিত্রের চলচ্চিত্রে অভিষেক হয়। এ পর্যন্ত শতাধিক চিত্রনাট্য ও কাহিনি লিখেছেন এটিএম শামসুজ্জামান। পরিচালনা করেছেন ‘এবাদত’ নামের একটি চলচ্চিত্র।

১৯৬৫ সালের দিকে সিনেমায় প্রথম অভিনয় করেন। তবে মাইলফলক ধরা হয় ১৯৭৬ সালে আমজাদ হোসেনের ‘নয়নমণি’ চলচ্চিত্রে খলনায়ক চরিত্রটি। কাজী হায়াতের ‘দায়ী কে?’ ছবির জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেতা ও রেদওয়ান রনির ‘চোরাবালি’র জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে পার্শ্বচরিত্রে শ্রেষ্ঠ অভিনেতার সম্মাননা অর্জন করেন তিনি। শিল্পকলায় অবদানের জন্য ২০১৫ সালে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা একুশে পদক পান। এটিএম শামসুজ্জামানকে সর্বশেষ সিনেমার পর্দায় অভিনয় করতে দেখা গেছে নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু পরিচালিত ‘আলফা’ চলচ্চিত্রে।