পরীক্ষার কক্ষে শিক্ষকদের সামনেই কেউ পুরো বই, কেউ বইয়ের পাতা রেখে লিখছেন উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) এইচএসসি প্রথম বর্ষের পরীক্ষার্থীরা।
শুক্রবার ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল বিএম কলেজে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের পরীক্ষায় একই দৃশ্য দেখা যায়। ওই কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন ৪৯৪জন।
ওই পরীক্ষা কেন্দ্রের কক্ষে দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের নকল প্রতিরোধ করা তো দূরের কথা, তাদের প্রহরায় এসব চলতে দেখা যায়।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে কেন্দ্র সচিব মো. হাসান আলী নবাব বলেন, ‘আসুন অফিস কক্ষে বসে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করি।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, যাদের কোনো উপায় নেই তারাই উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কোর্সে ভর্তি হয়। শিক্ষা নয়, সনদ হাতে পাওয়াটাই তাদের মূল উদ্দেশ্য। এসব কারণে পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষকদের কিছুটা ছাড় দিতে হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরীক্ষার্থী বলেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা হলে সুযোগ সুবিধা দেওয়ার জন্য প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর নিকট হতে ২০০০ টাকা পর্যন্ত নিয়েছেন। এছাড়াও প্রতি পরীক্ষায় প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে বিভিন্ন পরিমাণে টাকা নেওয়া হয়।
ওই কেন্দ্রে দায়িত্বে ছিলেন জনস্বাস্থ্য উপ-সহকারী প্রকৌশলী আতিকুর ইসলাম। তিনি বলেন, আমি এখানে নতুন এসেছি, তাই পরিস্থিতি এখনও বুঝতে পারিনি।
বাউবি পরীক্ষায় জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সোহাগ চন্দ্র সাহা জানান, সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হওয়ার মতো কোন কাজ করতে দেওয়া হবে না, কেউ করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ব্যাপারে রানীশংকৈল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৌসুমী আফরিদা বলেন, আমি ঢাকায় রয়েছি, তাই এ ব্যাপারে এই মুহূর্তে কোন ব্যবস্থা নিতে পারছি না।
উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে গত ২৬ এপ্রিল পরীক্ষা শুরু হয়।