ভোলায় কর্মচারী-কাউন্সিলর দ্বন্দ্বে অচল পৌরসভা

কাউন্সিলরদের অসদাচরণের অভিযোগে গতকাল শনিবার তৃতীয় দিনের মতো ভোলা পৌরসভার সব কার্যক্রম বন্ধ থাকে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৯ মে) সন্ধ্যায় একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ভোলা পৌরসভার সব কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেন পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এদিকে কার্যক্রম বন্ধ থাকায় গত দুই দিন ধরে রাতভর বন্ধ ছিল পৌরসভার সব সড়কবাতি। ফলে সন্ধ্যার পর অন্ধকারের নগরীতে পরিণত হয় ভোলা পৌরসভা।  

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ভোলা পৌরসভার সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মীর আলাউদ্দিন দেশ রূপান্তরকে জানান, মেয়র ও পৌরবাসীর অনুরোধে গতকাল শনিবার অ্যাসোসিয়েশনের ধর্মঘট প্রত্যাহারের কথা থাকলেও পৌর প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা মামলা’ দায়ের করায় ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে।

এদিকে পবিত্র রমজান মাসে রাতের বেলা তারাবি নামাজ পড়তে বের হয়ে অন্ধকার আর ময়লার গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে পৌরবাসী। ভোলা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোশারেফ লাভু বলেন, পৌরসভার মোড়ে মোড়ে ময়লার স্তূপ জমা হয়ে আছে। একে তো রমজান মাস, রাস্তা ঝাড়– না দেওয়ায় ধুলাবালি ও ময়লার দুর্গন্ধে পথচারীদের রাস্তায় চলতে খুবই কষ্ট হচ্ছে।

ভোলা নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এস এম বাহাউদ্দিন জানান, পৌর কর্মকর্তাদের সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের বিরোধে সাধারণ নাগরিক ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। সংকট নিরসন করে দ্রুত এ অবস্থা থেকে নাগরিকদের মুক্তি দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

ভোলা জুয়েলারি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও সদর রোডের ব্যবসায়ী অবিনাশ নন্দী জানান, রাতে বৈদ্যুতিক ল্যাম্পপোস্টের আলো বন্ধ থাকায় অলঙ্কার ব্যবসায়ীরা আতঙ্কের মধ্যে সময় পার করছেন।

ভোলা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র মঞ্জুরুল আলম জানান, ‘পৌরসভার সচিবের রুম থেকে একটি এসি চুরি হয়েছে। পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জসীমউদ্দিন আরজুর বিরুদ্ধে মামলা করতে বলেছি এসি চুরির অভিযোগে। সচিব মামলা করেননি, তাই আমি বাদী হয়ে মামলা করেছি।’

সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, কর্মচারীদের সঙ্গে আমাদের কোনো বিরোধ নেই। পৌরসভার কর্মকর্তাদের অনিয়মে বাধা দেওয়ায় তারা সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনকে উসকানি দিয়ে এ পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।

ভোলা পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, তার অনুরোধে ভোলা পৌরসভা সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন পৌরবাসীর জরুরি পানি সরবরাহ চালু রেখেছে। সমস্যা সমাধানে ভোলা পৌরসভা সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের সঙ্গে তিনি আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।