চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় জিকে সেচ প্রকল্পের (গঙ্গা কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প) খাল দখল করে গড়ে তোলা হচ্ছে একের পর এক স্থাপনা। কুমার নদের প্রধান শাখা এই খালটির দুই পাড় দখল করে শত শত পাকা স্থাপনা গড়ে তুলছেন এলাকার প্রভাবশালীরা। সেচ প্রকল্পের এই গুরুত্বপূর্ণ খালের জায়গা দখলের মহোৎসব চললেও নীরব রয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এদিকে খালের দুই তীরে অনবরত দখলযজ্ঞ চলায় এটি সংকুচিত হয়ে নাব্য হারাচ্ছে। ফলে হুমকির মুখে পড়ছে চুয়াডাঙ্গাসহ চারটি জেলার লক্ষ লক্ষ জমির সেচ ব্যবস্থা। এদিকে প্রশাসনের নাকের ডগায় খাল দখল করে আবাসিক ও বাণিজ্যিক স্থাপনা গড়ে তোলা হলেও সেগুলো উচ্ছেদে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে না।
পদ্মার শাখা নদী কুমার। এই নদীর বুক চিরে জিকে প্রকল্পের খাল বয়ে গেছে চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়া জেলার ওপর দিয়ে। খালটি এই অঞ্চলের কৃষকদের প্রধান সেচ প্রকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে দীর্ঘদিন থেকে। যার নাম গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জিকে) সেচ প্রকল্প। মূলত এই খালের পানি ব্যবহার করেই উৎপাদিত হয় লাখ লাখ হেক্টর জমির ফসল। অথচ সেই খালের ওপর পড়েছে শক্তিশালী দখলদারদের লোলুপ দৃষ্টি।
গত বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, খালের দুপাড় ধরে গড়ে তোলা হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য স্থাপনা। স্থানীয়রা জানান, প্রভাবশালী মহল রাজনৈতিক সুবিধা নিয়ে দখল করছে খালটি। অনেকে আবার দখলি জায়গার ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করেছেন।
তবে কয়েকজন দখলকারী দাবি করেন, তারা এতদিন ধরে সরকারি সকল নিয়মনীতি মেনেই বসবাস করে আসছেন। আগামীতেও তারা সরকারি সকল শর্ত মেনেই এখানে বহাল থাকতে চান। তারা জানান, বিগত কয়েক বছর আগে তারা পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে এক বছরের জন্য জায়গা ইজারা পেয়েছিলেন। মেয়াদ শেষে পুনরায় নবায়ন করতে গেলে পাউবো তা আর বর্ধিত করেনি।
চুয়াডাঙ্গা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী জাহেদুল ইসলাম জানান, দখলকারীদের উচ্ছেদ করতে বিভিন্ন সময়ে উদ্যোগ নিলেও নানা কারণে সম্ভব হয়নি। দখলদারদের চিহ্নিত করতে এরইমধ্যে ৪২৫ জন অবৈধ দখলকারীর নাম উল্লেখ করে একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। দখলের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সে তালিকা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরেও পাঠানো হয়েছে। অনুমতি পেলেই খুব দ্রুত দখলদারদের উচ্ছেদে মাঠে নামা হবে।
আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাহাত মান্নান জানান, কুমার নদের দুপাড়ে যেভাবে বড় বড় স্থাপনা গড়ে উঠেছে তা ভাঙার মতো সরঞ্জামাদি নেই উপজেলা প্রশাসনের। বিষয়টি অবগত করিয়ে দখলদারদের উচ্ছেদ করতে বিআইডাব্লিউটির কাছে বরাদ্দ চেয়ে একটি চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া গেলেই উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করা হবে।
তবে চুয়াডাঙ্গা নদী বাঁচাও আন্দোলনের আহ্বায়ক হামিদুল হক মুন্সি বলেন, প্রশাসনের এসব খোঁড়া যুক্তি। এটি কোনো মতেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, নদের দুপাড়ে শত শত পাকা স্থাপনা এক দিনে গড়ে ওঠেনি। দীর্ঘদিন ধরেই তা গড়ে তোলা হয়েছে। দখলদারদের এরকম সরব উপস্থিতি থাকলেও কেন ব্যবস্থা নেয়নি সংশ্লিষ্টরা প্রশ্ন রাখেন তিনি।