৫০ বছরের মহাপরিকল্পনা রাজশাহী ঘিরে

রাজশাহীর উন্নয়নে ৫০ বছরের জন্য মহাপরিকল্পনা তৈরি ও তা বাস্তবায়নে কাজ করবে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পাওয়ার চায়না। আগামী তিন বছর আটটি খাত সামনে রেখে পরিকল্পনা তৈরি এবং ধাপে ধাপে সেগুলো বাস্তবায়ন করা হবে। এ লক্ষ্যে রাজশাহী সিটি করপোরেশন ও পাওয়ার চায়নার মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে। গতকাল রবিবার দুপুরে নগরভবন সভাকক্ষে এ অনুষ্ঠানে সিটি করপোরেশনের পক্ষে মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন ও পাওয়ার চায়নার পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার হান কুন এতে সই করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন জানান, বর্র্তমানে সিটি করপোরেশনের আয়তন ছোট। আগামীতে এটি প্রায় ৪১০ বর্গকিলোমিটারে সম্প্রসারণ করা হবে। এই বৃহৎ এলাকার মানুষকে নগরের সুযোগ-সুবিধা প্রদানে চিহ্নিত করা আটটি খাত সামনে রেখে মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করে দেবে পাওয়ার চায়না। আগামী তিন বছরের মধ্যে মাস্টারপ্ল্যান তৈরির পর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে একটার পর একটা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

মেয়র বলেন, পিছিয়ে পড়া রাজশাহীকে এগিয়ে নিতে আগামী ৫০ বছরের জন্য এই মহাপরিকল্পনা। এরই মধ্যে পদ্মা নদীতে ড্রেজিং কাজ শুরু হয়েছে। সোনাইকান্দি থেকে তালাইমারি পর্যন্ত পদ্মা নদীতে প্রায় ১০-১২ কিলোমিটার জায়গা পাওয়া যাবে। সে জায়গায় স্যাটেলাইট টাউন, হোটেল, মোটেল, বিনোদনপার্ক গড়ে তোলা হবে। নদীর ধার এমনভাবে তৈরি হবে, যাতে শহরের প্রায় ৪০ শতাংশ অর্থনৈতিক উৎস সেখান থেকে আসবে। বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনাল তৈরি করে উন্নয়ন, সিঙ্গাপুরের মতো আধুনিক বিশেষায়িত হাসপাতাল, গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন, সুয়ারেজ-ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নগরের উত্তর দিকে ‘সায়েন্স সিটি’ তৈরি করতে চাই। এছাড়া গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, মেট্রোরেল ও ফ্লাইওভার তৈরি করা হবে।

অনুষ্ঠানে পাওয়ার চায়নার বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার হান কুন বলেন, পাওয়ার চায়না-বাংলাদেশ সম্পর্ক নতুন নয়। ১৯৯০ সাল থেকে এটি বাংলাদেশে কাজ করছে। অনেকগুলো বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। আমরা রাজশাহীর সঙ্গে কাজ করতে বদ্ধপরিকর।

রাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাওগাতুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন রাসিকের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক। পাওয়ার চায়নার প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন লে জি, অ্যান্ডু ও ইয়াং শাও।

মেয়র জানান, গত ২৩ জানুয়ারি বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ঝ্যাং জ্যুয়ো রাজশাহীতে এসে সহযোগিতার আশ^াস দেন। এরপর তিনি চীনের বৃহত্তর প্রতিষ্ঠান পাওয়ার চায়নাকে রাজশাহীতে পাঠান। রাজশাহীর উন্নয়নে পাওয়ার চায়নাকে মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করার অনুরোধ জানান মেয়র। তারা সম্মত হওয়ার পর কয়েক দফা আলাপ-আলোচনার পর সমঝোতা স্মারক সই হয়।