মা, মেয়ে, ছেলের লাশ: সম্পত্তি নিয়ে ছিল পারিবারিক বিরোধ

রাজধানীর উত্তরখান এলাকার একটি বাসা থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা মা, মেয়ে ও ছেলের ৩/৪ দিন আগেই মৃত্যু হতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। উল্লেখ্য, উত্তরখানের ভাড়া বাড়ি থেকে রোববার মা জাহানারা বেগম মুক্তা (৪৮), ছেলে কাজী মুহিব হাসান রশ্মি (২৮) ও শারীরিক প্রতিবন্ধী মেয়ে আফিয়া সুলতানা মীম (২০) নামে তিনজনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

জাহানারা বেগমের স্বামীর নাম মৃত ইকবাল হোসেন। তাদের গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের ভৈরবের জগন্নাথপুর এলাকায়। এলাকায় সম্পত্তির ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে পারিবারিক দ্বন্দ্বে জড়িয়ে ছিল পরিবারটি। বাড়িতে তাদের মাথা গোঁজার মতো ঠাঁই ছিল না। তবে ঠিক কি কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে সে সম্পর্কে কোনো ধারণা দিতে পারেননি আত্মীয়স্বজন বা প্রতিবেশীরা।

জাহানারা বেগমের জা (দেবরের স্ত্রী) তানজিনা আক্তার জানান, ইকবাল হোসেন বিআরডিবি অফিসের শাখা ম্যানেজার ছিলেন। তিনি ২০১৬ সালে চাকরিরত অবস্থায় হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। ওইসময় তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদরে ভাড়া বাসা নিয়ে বসবাস করতেন। স্বামীর মৃত্যুর পর জাহানারা ছেলে-মেয়েকে নিয়ে ঢাকায় থাকতেন। তার ছেলে মুহিব সম্প্রতি শেষ হওয়া ৪০ তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন।।

প্রতিবেশী শফিক ও মুরাদ জানান, পারিবারিক সম্পত্তির ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে ইকবালের ভাইদের সাথে বিরোধ থাকায় বাড়িতে তাদের কোন থাকার ঘর ছিল না। তাই তারা বাড়িতে খুব একটা আসতেন না। তবে গত দুই মাস আগে বাড়ির পাশের এক বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস শুরু করেন জাহানারা বেগম মুক্তা। সেখানে থেকে আত্মীয়দের সাথে দেন-দরবারে সিদ্ধান্ত হয় সম্পত্তির ভাগ-বাঁটোয়ারা করতে রমজানের ঈদের পর সালিস দরবার হবে।

ভৈরবের ভাড়া বাড়ির মালিক মুকুল মিয়া জানান, প্রতিবন্ধী মেয়ের চিকিৎসা ও উত্তরখানে তাদের মালিকানাধীন একটি খালি জায়গায় বাড়ি নির্মাণ করতে গত ৪ মে তারা ভৈরবের বাসা ছেড়ে দিয়ে ঢাকায় চলে যান। তিনি নিহত জাহানারা বেগম মুক্তা ও ছেলে মুহিব হাসান রশ্মির বেশ প্রশংসা করে বলেন, তারা বেশ ভদ্র, চুপচাপ স্বভাবের ছিলেন। একটি ভালো চাকরি করে মা ও বোনকে নিয়ে সুখের নীড় গড়ে তোলার স্বপ্ন ছিল মুহিবের। এ নিয়ে প্রায়ই মুহিব তার সাথে কথা বলতেন বলেও তিনি জানান।