রোজা এলেই কদর বাড়ে চুটকি জিলাপির

ডাল-চালের মিশ্রণে তৈরি এক জিলাপি। ছোট আকারের এ জিলাপি অন্য জিলাপি থেকে আলাদা। এ জিলাপির স্বাদ অনেকটাই টক। ফলে চুটকি জিলাপি হিসেবে গোটা ময়মনসিংহে আলাদা পরিচিতি রয়েছে নগরীর জিলা স্কুল মোড়ের জাকির মিয়ার এ জিলাপির।

সময়ের বিবর্তনে নগরীর ইফতার ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে এ জিলাপি। ইফতারে বাড়তি কদরও রয়েছে ঐতিহ্যবাহী এ জিলাপির।

এ জিলাপির দিকেই সবার আগ্রহ থাকায় প্রতি রোজায় এ জিলাপি নিয়ে শুরু হয় কাড়াকাড়ি। গড়ে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে এ জিলাপি। নগরীর পাশাপাশি আশেপাশের বিভিন্ন উপজেলা থেকেও অনেকেই ইফতারিতে এ জিলাপির স্বাদ নিতে ছুটে আসেন।

দেখা গেছে, রমজানে নিত্যদিনই মাগরিবের নামাজের আগ পর্যন্ত এ জিলাপি নিয়ে প্রতিযোগিতা চলে ক্রেতাদের মধ্যে। ফলে এই সময়টাতে ভিড় সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় কারিগরের।

অবশ্য এ নিয়ে কোন বিরক্তি নেই কারিগর জাকির মিয়ার (৫০) মুখে। তার সাফ জবাব- রোজাদার ও ভোজনরসিকরা এ জিলাপিতে তৃপ্ত হচ্ছেন। এটা আমার জন্য গর্বের।

প্রায় দুই যুগ যাবৎ ঐতিহ্য ধরে রেখেছে জাকির মিয়ার টক জিলাপি। অন্যান্য সময়েও এ জিলাপির আবেদন থাকলেও রোজার সময়ে ইফতারে প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠে এ জিলাপি। এক হাতেই এই দীর্ঘ সময় যাবৎ জিলাপি বানিয়ে আসছেন জাকির। তবে রোজার সময় চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দুই থেকে তিনজন সহযোগীর সহায়তা নিতে হয় তাকে।

নিজস্ব বৈশিষ্ট্যে অনন্য জাকির মিয়ার চুটকি জিলাপি। এ জিলাপি তৈরির কৌশল সম্পর্কে বলতে গিয়ে সংক্ষেপে উত্তর দেন জাকির। তিনি বলেন, সাধারণত আটা বা ময়দা দিয়ে জিলাপি তৈরি হয়। কিন্তু আমি এ জিলাপি তৈরি করছি চালের গুড়ো দিয়ে। চালের গুড়োর সঙ্গে ডাল মেশানোর পর কড়াইয়ের তেলে এ জিলাপি ভাজা হয়।

রোজার সময় প্রতিদিন সকাল ১১ টা থেকেই জিলাপি তৈরির প্রস্তুতি শুরু হয় জাকিরের। তিনি জানান, আমার জিলাপিতে কোন প্রকার কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয় না। ফলে এ জিলাপি মুখে দিতেই অন্য রকমের স্বাদ পাওয়া যায়।

জিলাপি তৈরির এ কারিগরের দাবি, জিলাপির মান ধরে রাখতেই প্রতিবারই ভাজার সময় নতুন তেল ব্যবহার করেন। ফলে এ জিলাপির স্বাদের টানেই প্রতি রোজাতেই ক্রেতার সংখ্যা বাড়ছে।

নগরীর চরপাড়া এলাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকুরে আশিকুল ইসলাম। নিজের এক সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে এসেছেন জিলাপি কিনতে। কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চুটকি জিলাপি ছাড়া ইফতারই জমে না। আমার সন্তানদের খুবই পছন্দ এ জিলাপি। সারাদিন পানাহারমুক্ত থাকার পর এ জিলাপি মুখের রুচিও বাড়ায়।

ময়মনসিংহ নগরবাসীর কাছে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে এ চুটকি জিলাপি। চাহিদার কথা মাথায় রেখে প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ মণ জিলাপি তৈরি করেন জাকির। অবশ্য এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাতে চাননি তিনি।

নগরীর বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে হরেক পদের জিলাপি তৈরি হলেও সবার নজর চুটকি জিলাপির দিকেই। চাহিদা দিন দিন বেড়ে যাওয়ায় এ জিলাপির দামও বাড়ছে বছর বছর। মাত্র ৫ বছর আগেও এ জিলাপি বিক্রি হতো কেজিতে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়।