যৌতুকের বলি বালিকা বধূ ফারজানা

মাত্র পনেরো দিন আগে কিশোরী বধূকে স্বামীর বাড়িতে রেখে এসেছিল বাবা। সোমবার সকালে স্বামীর বাড়ির পাশে একটি বাঁশঝাড় থেকে উদ্ধার হয়েছে সেই কিশোরীর মরদেহ।

পুলিশের ধারণা তাকে গলাটিপে হত্যা করা হয়েছে। লাশ উদ্ধারের জন্য পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই লাপাত্তা হয় তার স্বামী।

বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার পারশুন গ্রাম থেকে ফারজানা খাতুনের(১৫) লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। 

থানা পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, নন্দীগ্রাম উপজেলার থালতা মাঝগ্রাম ইউনিয়নের আগাপুর গ্রামের দিনমজুর আবুল কালামের কিশোরী মেয়ে ফারজানার একমাস আগে বিয়ে হয় পার্শ্ববর্তী পারশুন গ্রামের মঞ্জুরুল ইসলামের ছেলে রকি হোসেনের সাথে। বিয়েতে ২৫ হাজার টাকা যৌতুক দেওয়ার কথা থাকলেও ফারজানার বাবা সেই টাকা পরিশোধ করতে পারেনি।

এক বছর পর যৌতুকের টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আবুল কালাম ১৫ দিন আগে তার মেয়েকে স্বামীর বাড়িতে রেখে যান। এরপর সোমবার সেই কিশোরীর লাশ উদ্ধার করা হয়।

ফারজানার বাবা আবুল কালাম জানান, রকি এর আগেও একটি বিয়ে করেছিল। সে তার প্রথম স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পর ফারজানাকে দ্বিতীয় বিয়ে করে। বিয়ের সময় ২৫ হাজার টাকা যৌতুক দেওয়ার কথা হয়। তিনি টাকা যোগার করতে না পারায় মেয়েকে তার স্বামী নিয়ে যাচ্ছিলো না।

এক বছরের মধ্যে টাকা দেওয়ার ওয়াদা করে ১৫দিন আগে তিনি মেয়েকে স্বামীর বাড়িতে রেখে আসেন। কিন্তু ঈদের আগেই টাকা নেওয়ার জন্য সে মেয়েকে নির্যাতন শুরু করে। এরইমাঝে তিনি জানতে পারেন তার মেয়েকে মেরে ফেলা হয়েছে।

নন্দীগ্রাম উপজেলার কুমিড়া পণ্ডিতপুকুর পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক(এসআই) নূর মোহাম্মদ জানান, সোমবার সকালে এলাকাবাসীর দেওয়া সংবাদের ভিত্তিতে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের গলায় ও গালে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে তাকে গলা টিপে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।

লাশ ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ(শজিমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।