বাতের ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে

হাড়ের জয়েন্টে ব্যথা বা বাতরোগের হার নানা কারণে বেড়েই চলেছে। ব্যথাকে তেমন গুরুত্ব না দেওয়ায় পরবর্তী সময়ে জটিল আকার নিতে পারে এই বাতরোগ। ফলে সময় থাকতে সচেতন হওয়া সবার জন্যই জরুরি।

লক্ষণ

বাতের অসুখের প্রাথমিক লক্ষণ হলো হাড়ের জয়েন্টে জ্বালাপোড়া, হাত-পা বা বিভিন্ন জায়গায় ফুলে যায়। হাঁটা-চলায় অসুবিধা অনুভূত হয়। ওঠাবসা করতে গেলে যন্ত্রণা অনুভূত হয়।

শিশুদেরও হতে পারে বাত

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব বলছে, বিশ্বের ৪১ মিলিয়নেরও বেশি শিশুরই বয়সের তুলনায় ওজন বেশি। বিশেষ করে, পাঁচ বছর বয়সের নিচের শিশুদের এই বাতের সমস্যায় বেশি পড়তে হয়। মোটা শিশুদের বাত, ডায়াবেটিস, হার্টের অসুখসহ নানা অসুখের ঝুঁকি থাকে। তা ছাড়াও অতিরিক্ত ওজনের শিশুরা মানসিকভাবেও অসুস্থ হয়ে পড়ে।

কেন হয়

অস্থিসন্ধিতে ইউরিক এসিড জমার কারণেই বাতব্যথা হয়ে থাকে। শতকরা ২০ ভাগ রোগীর ক্ষেত্রে দেখা যায় বাতরোগের পারিবারিক ইতিহাস থাকে।

কিছু কিছু ওষুধ যেমনÑ অ্যাসপিরিন, বিভিন্ন ডাই-ইউরেটিকস, লিভোডোপা ইত্যাদি ওষুধ বাতরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

বাড়তি ওজন মানেই শরীরে বাড়তি ব্যথা। অতিরিক্ত ওজন বা মেদ সাধারণত কোমরে জমে। আর সেখান থেকেই শুরু হয় ব্যথা এবং ধীরে ধীরে হাঁটুতে নামে। বাত থেকে দূরে থাকার প্রধান শর্তই হচ্ছে উচ্চতা অনুযায়ী শরীরের ওজন ঠিক রাখা।

কিছু পেশায় অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, আবার অন্য কিছু পেশায় সারা দিন বসে থাকতে হয়। এতে হাঁটু ও কোমরে চাপ পড়ে।

অনেক সময় ভারী কাজ করতে গেলেও হাড়ের বিভিন্ন জয়েন্টে প্রচুর চাপ পড়ে।

ছোটবেলার কোনো ক্ষত বা হাত-পা ভেঙে যাওয়া থেকে পরে হাড়ের জয়েন্টে ব্যথা দেখা যায়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঝুঁকিও বাড়তে থাকে। তাই বড় ধরনের ক্ষত পুরনো হওয়ার আগেই সতর্ক হতে হবে।

করণীয়

যেকোনো অসুখের ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত ওজনের একটি নেতিবাচক ভূমিকা রয়েছে। তাই খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারে সব সময়ই সতর্ক হতে হবে। পাশাপাশি মনে রাখতে হবে, শরীরে যথেষ্ট পরিমাণে মিনারেল, ভিটামিনযুক্ত খাবার এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের অভাব যেন না হয়।

নিয়মিত ব্যায়াম যেমন শরীর সুস্থ রাখে, তেমনি অসুখ-বিসুখকেও দূরে রাখে। তবে বাতের ব্যথা এড়াতে বিশেষ কিছু ব্যায়ামের বিকল্প নেই। তবে তার জন্য একজন অভিজ্ঞ ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ নিতে হবে।

দীর্ঘ সময় এক জায়গায় দাঁড়িয়ে বা বসে না থেকে কিছুক্ষণ পরপর অবস্থান বদল করা উচিত।

ভারী জিনিস, অতিরিক্ত ওজন বহন এড়িয়ে চলতে হবে।

উঁচু জুতা না পরে নিচু ও শরীরের জন্য আরামদায়ক জুতা ব্যবহার করুন। প্রয়োজনে কমোড ব্যবহার করুন।

ব্যথার জন্য যদি ব্যথার ওষুধ খেতে হয়, তবে তা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খাওয়া উচিত। নিজে নিজে ফার্মেসি থেকে কোনো ওষুধ খাওয়া উচিত নয়।

 

ডা. এ এইচ মামুন ভূঁইয়া

বাতব্যথা, প্যারালাইসিস ও প্রতিবন্ধী রিহ্যাব. বিশেষজ্ঞ

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়

চেম্বার : পেইন কিউর ফিজিওথেরাপি সেন্টার

শহীদ আমির হোসেন রোড, আখাউড়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

০১৭১১০৬৯০৮৭,

০১৯১২-৯৫৮৫০৯