তাপপ্রবাহে উপকূলবাসীর নাভিশ্বাস

বাগেরহাটের পাঁচ উপজেলায় খাবার পানির সংকট

উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটের পাঁচটি উপজেলায় খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। একদিকে এসব পুকুরের পিএসএফগুলো (পানি বিশুদ্ধকরণ পদ্ধতি) নষ্ট হয়ে পড়ে আছে, অন্যদিকে বেশ কিছু পুকুরে নদীর লবণাক্ত পানি তোলায় দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকার হাজারো মানুষ। প্রচন্ড তাপপ্রবাহে সুপেয় পানির সংকট এখন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো।

বাগেরহাটের মোংলা, রামপাল, মোরেলগঞ্জ, কচুয়া ও চিতলমারী উপজেলায় অন্তত সাত লাখ মানুষের বসবাস। সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, এসব উপজেলার গভীর নলকূপে ভূগর্ভস্থ পানি মেলে না। তাই এসব এলাকার বাসিন্দাদের পুকুরের পানি অথবা বৃষ্টির পানির ওপর নির্ভর করতে হয়। তারা কয়েক কিলোমিটার দূর থেকে হেঁটে পানযোগ্য পানি সংগ্রহ করছেন।

বাধাল ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সেলিম শেখ বলেন, ‘আমাদের এলাকায় গভীর নলকূপ বসে না। বসলেও এর পানি পানের অযোগ্য। পুকুরে পিএসএফ থাকলেও তা অকেজো হয়ে পড়ে আছে। বেশ কিছু এলাকার নতুন খনন করা পুকুরে লোনা পানি তোলায় তা খাবার অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে। তাই অনেক দূর থেকে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। যাদের আনার সামর্থ্য নেই তারা টাকা দিয়ে কিনে খাচ্ছে। আমাদের সমস্যা সমাধানে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে।’

বাগেরহাটের  জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম শামীম আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, বাগেরহাটের পাঁচটি উপজেলায়ই গভীর নলকূপ দিয়ে ভূগর্ভস্থ পানি ওঠে না। তাই পুকুর অথবা বৃষ্টির পানিই এলাকার মানুষের সুপেয় পানির একমাত্র উৎস। তাই এই উপকূলীয় এলাকার মানুষের নিরাপদ পানি সরবরাহের লক্ষ্যে সরকার দুটি প্রকল্পের আওয়ায় প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০৮টি পুকুর খনন করছে। চলতি বছর জুনে এসব পুকুরের খননকাজ শেষ হবে। এগুলো খনন শেষ হলে এই এলাকার মানুষের নিরাপদ পানির সংকট অনেকটাই লাঘব হবে।