দুলাল উদ্দীন (২১) ৯ মাস আগে বিয়ে করেছেন। সংসারে ছোটখাট বিষয় নিয়ে প্রায়ই ঝগড়া হতো স্ত্রী সমেজা খাতুনের (১৮) সঙ্গে। স্ত্রী অভিমান করে চলে যায় বাবার বাড়ি। মেয়ের চোখের পানি সহ্য করতে না পেরে হরিপুর থানায় জামাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন শ্বশুর হরিপুর উপজেলার মশালডাঙ্গী গ্রামের আব্দুস সাত্তার। ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার যুবক দুলাল উদ্দিন।
সোমবার দুপুরে বিষয়টির সমঝোতা করতে উভয় পক্ষকে ডাকে হরিপুর থানা পুলিশ। থানায় দুপক্ষ উপস্থিত হলে স্ত্রীকে ছেড়ে দিতে রাজি হয়নি দুলাল। কিন্তু স্ত্রী সমেজা খাতুন তার সংসারে আসতে রাজি না হওয়ায় দেহমোহর টাকা ৭ দিনের মধ্যে ফেরত দিয়ে তালাক দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়।
ওই দিন বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বাড়িতে গিয়ে নিজের শোয়ার ঘরে গলায় ফাঁস দেন দুলাল। টের পেয়ে দুলালের মা দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে গলার ফাঁস কেটে হরিপুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হরিপুর থানার ওসি আমিরুজ্জামান জানান, বিয়ের পর থেকেই দুজনের মধ্যে মতের অমিল ছিল। বিষয়টি নিয়ে পারিবারিকভাবে একাধিকবার সমঝোতাও হয়েছে। সোমবার থানায় বসা হয়েছিল। মেয়েটি সংসার করতে রাজি না হওয়ায় দুই পরিবার বিবাহ বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এটা সহ্য করতে না পেরে দুলাল আত্মহত্যা করেন।
দুলালের বাবা ডাঙ্গীপাড়া ইউনিয়নের কয়েস আলী বাদী হয়ে থানায় একটি ইউডি মামলা দায়ের করেছেন। লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান ওসি।