গ্যাটকো দিয়ে কেরানীগঞ্জে খালেদার মামলার কার্যক্রম শুরু

গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানি আগামী ১৮ জুন অনুষ্ঠিত হবে।  আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কথা বিবেচনা করে আদালত নতুন এ দিন ধার্য করেন।

মঙ্গলবার ঢাকার কেরানীগঞ্জ কারাগারে স্থাপিত বিশেষ আদালত এদিন ঠিক করে দেন।

এত দিন ধরে মামলাটির বিচারকাজ পুরান ঢাকার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ আদালতে চলছিল।

জিয়ার বিরুদ্ধে করা নাইকোসহ আরো ১৭ মামলার বিচার এখন থেকে কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে নবনির্মিত ২ নম্বর ভবনের অস্থায়ী আদালতে অনুষ্ঠিত হবে।

মঙ্গলবার গ্যাটকো দুর্নীতি মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য ছিল। কিন্তু আসামি পক্ষের আইনজীবীরা অভিযোগ গঠনের শুনানি পেছানোর আবেদন করেন।

শুনানিতে তারা বলেন, “খালেদা জিয়া হাসপাতালে ভর্তি। তাছাড়া তাকে আদালতে হাজির করা হয়নি। তাই অভিযোগ গঠনের শুনানি পেছানো হোক।”

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে কেরানীগঞ্জ কারাগারে পাশে ২ নং ভবনে অস্থায়ী ঢাকার ৩ নম্বর বিশেষ জজ আবু সৈয়দ দিলজার হোসেন পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৮ জুন দিন ধার্য করেন।

হাঁটুর সমস্যাসহ বেশ কয়েকটি জটিল রোগে খালেদা জিয়া বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন। এর আগে কয়েকবার শুনানির তারিখ থাকলেও অসুস্থতার কারণে তাকে আদালতে হাজির করা হয়নি।

২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর রাজধানীর তেজগাঁও থানায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে গ্যাটকো মামলাটি করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের উপপরিচালক গোলাম শাহরিয়ার চৌধুরী মামলার বাদী।

এদিকে, সোমবার আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে এক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, নিরাপত্তাজনিত কারণে কেরানীগঞ্জে অবস্থিত কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে নবনির্মিত ২ নম্বর ভবনের অস্থায়ী আদালতে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা ১৭টি মামলার বিচাররিক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ৩৪টি মামলা রয়েছে।

এর মধ্যে দুর্নীতির অভিযোগে আছে ৫টি। সেগুলো হলো জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ,নাইকো, গ্যাটকো ও বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতির মামলা।

মামলাগুলো সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে (এক-এগারোর সময়) করা। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডাদেশ দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হয়ে কারাগারে যাওয়ার আট মাসের মাথায় জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে ওই বছরের ২৮ অক্টোবর সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

খালেদা জিয়া সেই থেকে কারাগারে আছেন। ওই সাজার রায়ের বিরুদ্ধে তিনি হাইকোর্টে আপিল করেছেন। বর্তমানে বিশেষ এজলাসে ১৭টির মামলার বিচার প্রক্রিয়া চলমান আছে। অন্য ২৯টি মামলা ২০১৪ সালের পর বিভিন্ন সময়ে হয়েছে।

মূলত রাষ্ট্রদ্রোহ, হত্যা, ইতিহাস বিকৃতি, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি, ভুয়া জন্মদিন পালনের অভিযোগে এসব মামলা হয়। পুলিশ, সরকারি দলের নেতা-কর্মী ও আইনজীবীরা এসব মামলা করেছেন। এর মধ্যে ২৫টি মামলা হয়েছে ঢাকায়। কুমিল্লায় তিনটি এবং পঞ্চগড় ও নড়াইলে একটি করে মামলা হয়েছে।