খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অস্ত্রোপচার বন্ধ এক বছর

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলা (পাকেরহাট) স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রায় ২ লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবা চলছে মাত্র ছয়জন চিকিৎসক দিয়ে। চিকিৎসক সংকটের কারণে দূরদূরান্ত থেকে আসা রোগীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সংকটে এক বছর ধরে সার্জারি, সিজারিয়ান, হাইড্রোসিল ও ছোটখাটো অস্ত্রোপচারও বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় হাসপাতালের কোটি টাকার যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। অস্ত্রোপচার বন্ধ থাকায় সেবা বঞ্চিত হচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ।

খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বাইরেও দুটি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে। খানসামা সদরে ও কাচিনীয়া এলাকায় এ দুটি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অবস্থান। চিকিৎসক সংকটের এসব উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র ঢিমেতালে চলছে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারদের দিয়ে।  খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ১৫ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও রয়েছে মাত্র ছয়জন। এই ছয়জন চিকিৎসককেই প্রতিদিন গড়ে ৪০০-এর বেশি রোগী দেখতে হচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি গত তিন বছর আগে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও প্রশাসনিক অনুমোদন না পাওয়ায় এবং জনবল না থাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন কর্মরত চিকিৎসকরা। ৩১ শয্যার জনবল দিয়েই চলছে ৫০ শয্যার কার্যক্রম।

খানসামার আলোকঝাড়ী থেকে গর্ভাবস্থায় গাইনি ডাক্তার দেখাতে এসেছেন শামীমা আক্তার। তিনি বলেন, ‘আমি গাইনি ডাক্তার দেখাতে এসেছি। কিন্তু এখানে গাইনি ডাক্তার না থাকার কারণে অন্যত্র যেতে হচ্ছে।’

এ বিষয়ে খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবু রেজা মো. মাহমুদুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গত এক বছর ধরে জুনিয়র কনসালট্যান্ট সার্জারি, গাইনি ও অ্যানেসথেসিয়া করার চিকিৎসক না থাকার কারণে অস্ত্রোপচার বন্ধ রয়েছে। হাসপাতালের এসব সমস্যা ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।  দিনাজপুর সিভিল সার্জন আবদুল কুদ্দুছ বলেন, ‘আগামী জুলাই মাসে আটজন নতুন চিকিৎসক খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগ দেবেন। এই নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হলে চিকিৎসক সংকট কেটে যাবে।’