পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে অতীতের সব সময়ের চেয়ে বেশি পরিমাণে কার্বন ডাইঅক্সাইডের উপস্থিতি শনাক্ত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একদল বিজ্ঞানী। পৃথিবীর ইতিহাসে যেদিন থেকে কার্বনের মাত্রা রেকর্ড করা হচ্ছে, এরপর থেকে বর্তমানে সর্বাধিক মাত্রার কার্বন নির্গমন হচ্ছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
হাওয়াইয়ের দ্য মাওনা লোয়া অবজারভেটরি কেন্দ্র থেকে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাইঅক্সাইডের এই ব্যাপক মাত্রা শনাক্ত করে। সংস্থাটির মতে, বর্তমানে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ৪১৫ দশমিক ২৬ পিপিএম কার্বনের উপস্থিতি রয়েছে। এবারই প্রথম সংস্থাটি দৈনিক ভিত্তিতে বায়ুমণ্ডলে কার্বনের মাত্রা শনাক্ত করার কাজ শুরু করেছে।
আজ থেকে ৩০ লাখ বছর আগে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে এই পরিমাণ কার্বনের উপস্থিতি ছিল। তখন বিশ্বব্যাপী সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা কয়েক মিটার উঁচু ছিল এবং অ্যান্টার্কটিকার বিশাল অংশ ছিল জঙ্গলাকীর্ণ।
পটসড্যাম ইনস্টিটিউট ফর ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট রিসার্চের (পিআইকে) গবেষক ওলফগ্যাঙ ল্যুচ্যাট এএফপিকে বলেন, ‘জলবায়ুকে রক্ষায় আমরা যে সঠিক পথে নেই তা প্রমাণ করে এই তথ্য। প্রতিদিন কার্বনের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বছরের পর বছর ধরে আমরা তা লক্ষ করছি। কার্বন বৃদ্ধিকে স্থিতিশীল করতে হবে।’ কিন্তু বিজ্ঞানীরা বলছেন, জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে কার্বন ডাইঅক্সাইডের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় কার্বনের স্থিতিশীল অবস্থায় যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
স্ক্রিপস ইনস্টিটিউট অর ওশানোগ্রাফির কার্বন ডাইঅক্সাইড প্রকল্পের নির্বাহী পরিচালক র্যালফ কিলিংয়ের মতে, ২০১৯ সালজুড়েই যদি কার্বনের মাত্রা এমন বাড়তে থাকে তাহলে আগামী বছরগুলোতে এল নিনো (তাপমাত্রা বৃদ্ধি) ও সমুদ্রের ঢেউও উষ্ণ হয়ে যাবে। অবশ্য এর মধ্যেই বিজ্ঞানীরা এমন উষ্ণতা প্রত্যক্ষ করছেন।
র্যালফ আরও বলেন, ‘জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর কারণে এর মধ্যেই আমরা এল নিনোর মধ্যবর্তী প্রভাব দেখতে পাচ্ছি বিশ্বের নানান প্রান্তে।’
২০১৫ সালের প্যারিস চুক্তির মধ্য দিয়ে পৃথিবীর তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে ১.৫ ডিগ্রির মধ্যে রাখার কথা হয়েছিল। কিন্তু গত চার বছরই তাপমাত্রা রেকর্ড অতিক্রম করে চলেছে। মানবজাতি নিজেই তার কার্বন নির্গমনের রেকর্ড ভাঙছে বছরের পর বছর।
পৃথিবীপৃষ্ঠের তাপমাত্রা এর মধ্যেই ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। প্রতিবার যখন আমরা কোনো যন্ত্র চালানো শুরু করছি, একই সঙ্গে কার্বনও নির্গমন করছি। এই কার্বন ধোঁয়া আকারে আমাদের দৃশ্যপট থেকে উধাও হলেও বায়ুমণ্ডলে থেকে যাচ্ছে।
পরিবেশবাদী কিছু বিজ্ঞানী অবশ্য বায়ুমণ্ডলে ৩৫০ পিপিএম কার্বন থাকাকে সহনীয় মাত্রা বলতে চান। কিন্তু চলতি মাসের প্রথম দিকেই পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ৪১৫ পিপিএম পাওয়া গেছে, যা ক্রমে বাড়ছে। ২০১৭ সালে বায়ুমণ্ডলে কার্বনের মাত্রা ছিল ৪১০ পিপিএম।