নিচের চোয়ালের হাড় পেরের চোয়ালের সঙ্গে মাংস ও টেনডন দ্বারা আটকে থাকে যাকে টেমপোরোথম্যান্ডিবুলার জয়েন্ট বা সংক্ষেপে টিএমজে বলা হয়। একমাত্র এই সন্ধির কারণেই আমাদের মুখ খোলে, বন্ধ হয় বা নড়ে। এই সন্ধির সমস্যায় আমাদের দৈনন্দিন জীবন হয়ে উঠতে পারে অসহনীয়। অত্যন্ত কার্যকর এই জয়েন্ট যে সব কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
যাদের নিজের অজান্তেই অনিয়ন্ত্রিতভাবে দাঁতে দাঁত ঘষার অভ্যাস আছে। আমাদের মধ্যে অনেকের এই ক্ষতিকারক অভ্যাস আছে যারা রেগে গেলে, দুশ্চিন্তায় থাকলে বা ঘুমের মধ্যে দাঁতে দাঁত কাটে, সাধারণত সে বুঝতে না পারলেও তার কাছে থাকা যে কেউ এটা লক্ষ করতে পারে। দাঁতে দাঁত কাটার সময় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই একধরনের শব্দের সৃষ্টি হয়।
যাদের ক্যালসিয়াম বা ভিটামিন ডি-এর অভাব আছে । এই উপাদানের অভাবে সমগ্র শরীরের হাড় ক্ষয় হতে পারে। বেড়ে ওঠার বয়সে বা বৃদ্ধ বয়সে বিষয়টি অতি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত। অনেক সময় হরমোন বা অতি পুষ্টিহীনতার কারণেও এমন হতে পারে।
ওপরের ও নিচের দাঁতের মধ্যকার সম্পর্ক অস্বাভাবিক হলে, অর্থাৎ আমরা যখন মুখ বন্ধ করি তখন ওপরের ও নিচের দাঁতগুলো সাধারণত একটা নির্দিষ্ট জায়গাতে মিলিত হয়, এর তারতম্য হলেই নানা সমস্যা তৈরি হতে পারে। কৃত্রিম দাঁত সংযোজনের সময়টিও বিষয়টি অতি গুরুত্বপূর্ণ।
যারা নিজের অজান্তেই একদিকে চিবাই বা যাদের এক দিকের দাঁত নেই অথবা একদিকের দাঁতে সমস্যার কারণে বিপরীত দিক দিয়ে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলে।
মুখের দুর্ঘটনা বা আঘাতের পরবর্তী জটিলতা থেকে।
৬। যারা দীর্ঘ সময় কান ও কাঁধের মধ্যে ফোন চেপে বাঁকা হয়ে কথা বলেন, বিশেষ করে বাইকারদের মধ্যে ইদানীং এই অভ্যাস চোখে পড়ে।
টিএমজে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার উপসর্গ
খাবার চিবাতে, মুখ খুলতে বা নাড়াতে, হাই তুলতে, কথা বলতে কচ্ কচ্ বা টিক টিক অস্বাভাবিক শব্দ হতে পারে, কানের সামনে ব্যথা অনুভূত হতে পারে। চিকিৎসা না পেলে এমন সমস্যার তীব্রতা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে ও এক পর্যায়ে মুখ খোলা দুষ্কর হয়ে পড়ে। এই জাতীয় সমস্যায় কোনো চাক্ষুস অস্বাভাবিকতা যেমন ব্যথার স্থানটি ফোলা বা মুখের মধ্যকার কোনো পরিবর্তন দেখা যায় না বলে অনেকেই চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে অপেক্ষা করে। এমন সমস্যায় ভয় পাওয়া বা হতাশ হওয়ার যেমন কিছু নেই আবার অবহেলা করারও কোনো সুযোগ নেই। দ্রুত অনুমোদিত ডেন্টাল চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। কষ্টের ইতিহাস, ক্লিনিকাল পরীক্ষা আরএক্স-এর মাধ্যমে সহজেই রোগ শনাক্ত হয়। অনুমোদিত চিকিৎসক বলতে কমপক্ষে বিডিএস ডিগ্রিধারী চিকিৎসক বলা হচ্ছে। প্রথমেই রোগের নানান কারণের মধ্যে নির্দিষ্ট কারণটি নিশ্চিত করে কারণকে দূর করতে হবে। পাশাপাশি বিশেষ কিছু ব্যায়াম, অভ্যাসের পরিবর্তন, কিছু ওষুধ ইত্যাদির সমন্বয়ে ধীরে ধীরে অবস্থার পরিবর্তন হয়। কিন্তু অবহেলা থেকে জটিলতা বাড়লে সার্জারির প্রয়োজন পড়তে পারে।