বাগ্যুদ্ধ চলছিল কয়েক দিন ধরেই। কেউ কাউকে ছেড়ে কথা বলছিলেন না ভারতীয় জনতা পার্টি-বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা। আর মঙ্গলবার অমিত শাহের রোড শো ঘিরে বিজেপি-তৃণমূল সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে তার উত্তাপ দেখা গেল।
বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের রোড শো থেকেই তাণ্ডব চালানোর অভিযোগ উঠল বিদ্যাসাগর কলেজে। শুধু দরজা, জিনিসপত্র ভাঙচুর নয়, অফিসঘরে বসানো বিদ্যাসাগরের মূর্তিও বিজেপি সমর্থকেরা আছাড় মেরে ভেঙে দেন বলে অভিযোগ।
বিজেপির পাল্টা অভিযোগ, অমিত শাহের রোড শোতে ইট ছুড়ে আক্রমণ চালিয়ে প্রথমে গোলমাল বাঁধিয়েছে তৃণমূলই।
আনন্দবাজার জানায়, মহামনীষীর মূর্তি ভাঙার নিন্দায় সরব হয়েছে বিভিন্ন মহল। উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দিয়ে পুরো ঘটনার তদন্ত হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
পুলিশ কমিশনার রাজেশ কুমার রাতে জানান, তদন্ত শুরু হয়ে গিয়েছে।
রাতে মুখ্যমন্ত্রী ঘটনাস্থলে যান। সেখানে যান শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং পুলিশ কমিশনারও।
ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙা হয়েছে। আগুন জ্বালানো হয়েছে। এটা ওঁর ২০০ বছর। কোনো রাজনৈতিক দলের এ রকম হাঙ্গামা কখনো দেখিনি। বিহার-রাজস্থান থেকে গুন্ডা এনে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে।”
নিন্দার ভাষা নেই জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি লজ্জিত এবং ক্ষমাপ্রার্থী। বাংলার মানুষ হয়ে আমরা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে সম্মান দিতে পারি না বিজেপির গুন্ডাদের জন্য।”
আনন্দবাজার জানায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিধান সরণি দিয়ে শাহের রোড শো চলছিল। অভিযোগ, আচমকা এক দল সমর্থক পাঁচিল টপকে বিদ্যাসাগর কলেজের বিধান সরণি ক্যাম্পাসে ঢুকে হাঙ্গামা শুরু করেন।
“বিজেপির মিছিল থেকেই হাঙ্গামা হয়েছে। বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভেঙেছে ওরা। পুলিশে অভিযোগ দায়ের করছি” বলেন বিদ্যাসাগর কলেজের অধ্যক্ষ গৌতম কুণ্ডু।