সুস্থ থাকতে সবারই সুষম খাবার খাওয়া উচিত। তবে গর্ভাবস্থায় একজন নারীর জন্য তা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বয়স, শারীরিক অবস্থা, ওজন ইত্যাদি বিবেচনা করে ভালো ডায়েট সাজেশন আপনার ডাক্তারের কাছ থেকে জেনে নেবেন। যাদের ডায়াবেটিস বা উচ্চরক্তচাপের মতো সমস্যা, তারা ডাক্তারের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী খাবার খাবেন। ডায়াবেটিসের রোগীরা শর্করা ও মিষ্টিজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলবেন। ব্লাড প্রেশারের রোগীদের লবণ কম খেতে হবে। সকালে গর্ভবতী নারীর বমি বমি ভাব হয় এবং খেতে ইচ্ছা করে না। তারা ভারী খাবার না খেয়ে গ্রিন টিও বিস্কুট খেয়ে নিতে পারেন। একটু পরে দুটি রুটি ও সবজি, সঙ্গে একটি ডিম সিদ্ধ খাওয়া ভালো। সকাল ১০ থেকে ১১টায় এক গ্লাস ননি ছাড়া দুধ বা ফল বা ফলের জুস কিংবা বাদাম খেতে পারেন। দুপুরে এক বাটি ভাতের সঙ্গে মাছ বা মাংস, সবজির তরকারি, শাক, ডাল এবং তাজা ফল ও সবজির সালাদ খান। খাওয়ার শেষে খেতে পারেন দই। বিকেলে ঘরে তৈরি খাবার, কেক, বাদাম বা মটরশুঁটি সিদ্ধ খেতে পারেন। ফল বা এক গ্লাস ফলের জুসও খেতে পারেন। রাতের খাবার দুপুরের মতোই হবে। শাক বাদ দিয়ে সবজির তরকারি খেতে পারেন। ঘুমাতে যাওয়ার আগে এক গ্লাস ননিমুক্ত দুধ পান করতে পারেন।
যা খাবেন
ফলের চেয়ে শাকসবজি বেশি খান। জুস ও স্মুদি পান করতে পারেন, তবে কম। এগুলো ব্লাড সুগার লেভেল বৃদ্ধি ও দাঁতেরও ক্ষতি করে।
আলু, লাল চালের ভাত, রুটি, পাস্তা ইত্যাদি স্টার্চজাতীয় খাবার খাদ্যতালিকায় রাখুন। শর্করাজাতীয় খাবার এনার্জি দেবে।
চর্বিহীন মাংস, মুরগি, মাছ, ডিম, ডাল (মটরশুঁটি, মসুর ডাল) ইত্যাদি প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খান। সপ্তাহে দুদিন বা তার চেয়েও বেশি মাছ খান। সারডিন, স্যামনের মতো তৈলাক্ত বা সামুদ্রিক মাছ সপ্তাহে এক দিন খেতে পারেন। আমিষজাতীয় খাবার গর্ভের শিশুর শরীরের নতুন টিস্যু গঠনের জন্য সাহায্য করে।
দুধ, পনির, দই ইত্যাদি খাবারগুলো ক্যালসিয়ামের উৎস। এগুলোতে যেন চিনি ও ফ্যাটের পরিমাণ কম থাকে। ফ্যাটজাতীয় খাবার শিশুর মস্তিষ্কের কোষ গঠনে সাহায্য করে।
অনেকের আয়োডিনের ঘাটতি থাকে। আয়োডিন এমন খনিজ উপাদান, যা শিশুর মস্তিষ্ক গঠনের জন্য অপরিহার্য। দুগ্ধজাত খাবার ও সামুদ্রিক খাবার আয়োডিনের চমৎকার উৎস। গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীর অনেক বেশি কাজ করে।
যা খাবেন না
কাঁচা ডিম খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ কাঁচা ডিমে সালমোনেলা নামক ব্যাকটেরিয়া থাকে।
অর্ধসিদ্ধ মাংসে ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে। প্যাকেটজাত মাংস যেমনÑ সসেজ খাওয়া থেকেও বিরত থাকতে হবে। মাংস ভালোভাবে সিদ্ধ করে রান্না করতে হবে।
দুধ ভালো করে ফুটিয়ে পান করতে হবে। অপাস্তুরিত দুধ দিয়ে তৈরি খাবার যেমনÑ নরম পনির খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
অতিরিক্ত কলিজা খাওয়া বাদ দিতে হবে। লিভারে রেটিনল থাকে, যা একটি প্রাণিজ ভিটামিন এ। এর অতিরিক্ততা গর্ভের শিশুর জন্য ক্ষতিকর।
চা, কফি ইত্যাদিতে ক্যাফেইন থাকে। দৈনিক ২০০ গ্রামের বেশি ক্যাফেইন গ্রহণ করা ঠিক নয়। অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণের ফলে কম ওজনের শিশু জন্ম গ্রহণ করে।
সামুদ্রিক মাছ স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। কিন্তু অধিক পরিমাণে খেলে গর্ভের শিশুর স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি হয়। কারণ সামুদ্রিক মাছে পারদজাতীয় পদার্থ থাকে।